হাজীগঞ্জে হাত-পা বাঁধা দেহ উদ্ধার

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফরিদ (৪৩) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার রান্ধুনীমূড়া মুন্সী বাড়ির সামনে সড়কের পাশে স্থানীয়রা মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহত ফরিদ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিজি বাড়ির শাহজাহানের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানে দারোয়ানের দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকালে এক নারী ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে দেখেন, একজন ব্যক্তির হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পড়ে আছে। পরে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা যায় এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান (যুগান্তর) বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। মরদেহটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।”

এদিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে রামগঞ্জে ওই দারোয়ান কর্মরত স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির চেষ্টা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। দারোয়ান বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে অপহরণ করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর শনিবার সকালে তার মরদেহ হাজীগঞ্জের ওই এলাকায় পাওয়া যায়।

ঘটনার সময়রেখা

সময়স্থানঘটনা
শুক্রবার রাতরামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরস্বর্ণের দোকানে ডাকাতির চেষ্টা, দারোয়ান বাধা দেন
রাতের পরবর্তী সময়রামগঞ্জ এলাকাদারোয়ানকে অপহরণ করে প্রাইভেটকারে নিয়ে যাওয়া হয়
শনিবার সকালরান্ধুনীমূড়া, হাজীগঞ্জসড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
সকাল পরবর্তী সময়হাজীগঞ্জ থানাপরিচয় শনাক্ত ও তদন্ত শুরু

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।