জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চালকদের দুর্দশা ও ঋণের বোঝা

রাজধানী ঢাকাসহ এর আশেপাশের এলাকায় মারাত্মক রূপ নিয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের জ্বালানি সংকট। দিনের পর দিন সিএনজি পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। ফলে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের গাড়ির জমা তোলা, কিস্তির টাকা জোগাড় এবং সংসার চালানো নিয়ে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন সাধারণ পরিবহন চালকেরা। সড়কে গ্যাসচালিত গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।
রাজধানীর উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর এবং গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পাম্পগুলোর সামনে গ্যাস প্রত্যাশী শত শত সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চাহিদামতো গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে।
উপায় না পেয়ে কিস্তির টাকায় জমার দায় মেটাচ্ছেন চালকেরা
গ্যাস না পেয়ে দিনের একটি বড় অংশ পাম্পে আটকে থাকায় চালকদের দৈনিক আয়-রোজগার প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলেও প্রতিদিনের গাড়ির মালিকের জমা এবং সংসার খরচের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই মিলছে না।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. মনা জানান যে তিনি ভোর চারটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাননি। বাধ্য হয়ে জমানো বা কিস্তি থেকে টাকা তুলে এনে তাকে সিএনজি মালিকের জমা মেটাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে গাড়ির মালিককে জমা দেবেন কীভাবে আর নিজের পরিবারই বা চালাবেন কীভাবে, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। সামনেই বাসার ভাড়া পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় তিনি কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
নিজের প্রতিদিনের আয়ের হিসাব তুলে ধরে আরেক চালক জাহাঙ্গীর জানান, গাড়ির মহাজনকে দৈনিক জমা দিতে হয় এক হাজার দুইশত টাকা, আর গাড়ি চালাতে গ্যাস লাগে প্রায় পাঁচশত টাকার। নিজের দৈনন্দিন খরচের বাবদ আরও দুইশত থেকে আড়াইশত টাকা যোগ করে প্রতিদিন ন্যূনতম দুই হাজার টাকা আয় না হলে তার সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। গ্যাস না পাওয়ায় গত দুই মাস ধরে তার আয় প্রায় বন্ধ বললেই চলে।
নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে প্রাইভেট কারচালক সানাউল্লাহ বলেন যে তাদের এখন খুবই দুর্দিন চলছে। কাজ করতে না পারলেও প্রতিদিনের জীবনযাত্রার খরচ ঠিকই বহাল রয়েছে। গাড়ি চালাতে না পারলে তাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি। চালকদের মতে, অতি দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে হাজার হাজার চালককে সপরিবারে পথে বসতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
প্রেসার কমে তলানিতে, গ্যাস দিতে পারছে না পাম্পগুলো
ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে সিগন্যাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। এম এ মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল জানান, চার-পাঁচ দিন আগে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও মাঝখানে কিছুদিন সরবরাহ একেবারে বন্ধ ছিল। রাতের দিকে কিছুটা সরবরাহ মিললেও পুনরায় সংকট তৈরি হয়েছে। কম চাপের কারণে তাদের স্টেশনের ভালভ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রাতের দিকে প্রেসার কিছুটা বৃদ্ধি পায় বলে জানান তিনি।
আকিজ সিএনজি স্টেশনের কর্মী তারেক জানান, গ্যাস নিয়ে কোনো ভালো খবর নেই এবং পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে তাও তাদের জানা নেই। রাতের বেলায় সামান্য পরিমাণ গ্যাস দেওয়া সম্ভব হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জামান স্টেশনের কর্মী আব্দুল্লাহর কণ্ঠেও একই হতাশার সুর শোনা যায়। তিনি জানান, রাতের বেলা সামান্য গ্যাস দেওয়ার পর থেকে সারা দিন আর কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি।
সংকটের নেপথ্য কারণ
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহেশখালীতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য এলএনজি খালাসে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষপর্যায়ে থাকায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই পরিস্থিতি অনেকটাই কেটে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর