চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেওয়া হুমকির প্রতিবাদ করায় আব্দুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনেরা এ ঘটনায় স্থানীয় মোজাম্মেল (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, আব্দুল মান্নানের বাড়ির আত্মীয়দের দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়।
আব্দুল মান্নান রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার হাফেজ বজলুর রহমানের বাড়ির মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ে সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আব্দুল মান্নানের এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার স্থানীয় বাজারে ওই বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোজাম্মেল হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন আব্দুল মান্নান এর প্রতিবাদ করলে তাঁর সঙ্গে মোজাম্মেলের হাতাহাতি হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করে দেওয়া হয়। কিন্তু স্বজনদের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকেই মোজাম্মেল ক্ষুব্ধ ছিলেন।
এরপর রাতে ঘটে হামলার ঘটনা। স্বজনদের দাবি, এশার নামাজের পর আব্দুল মান্নান বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি অন্ধকার জায়গায় পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি কোপানো হয়। গুরুতর আহত হয়ে একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে স্বজনেরা তাঁকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ হামলার স্থান পরিদর্শন করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির পেছনে বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধ ও এর জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও হামলার পুরো ঘটনা এবং কারা এতে সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাজারে হুমকি ও হাতাহাতির পর রাতের হামলায় একজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।










