খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৫:৭ পিএম

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৫৪ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৭৪৭ জনে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ৮১৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত এক দিনে পরীক্ষার মাধ্যমে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ জনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯২ হাজার ৩১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৮ হাজার ৪১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্তদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন ঢাকা বিভাগের এবং অপরজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া হামের সাধারণ উপসর্গ। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, রোগ শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য