মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের হিসাবে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২৪ হাজার টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সদর থানার চান্দরা এলাকায় কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের কাছে হালিম ট্রেডার্সের সামনে পাকা সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সদর উপজেলার পাঞ্চনখাড়া গ্রামের মো. মজিবর রহমানের ছেলে মো. সায়ন হোসেন (৩০) এবং বাজেয়াপ্ত ভাটরা গ্রামের লাভলু মিয়ার ছেলে সিফাত আহমেদ (২০)।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের (বিপিএম-সেবা) দিকনির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। ডিবির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালোর তত্ত্বাবধানে এবং এসআই মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল চান্দরা এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় সায়ন হোসেনের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় সিফাত আহমেদের কাছ থেকেও ৪০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে দুই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোট ৮০ পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ২৪ হাজার টাকা। তবে এসব ইয়াবা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল কিংবা কোথায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার ও সরবরাহ ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এসব অভিযানে মাদক উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
চান্দরার এই অভিযানের ক্ষেত্রেও উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে এ বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে এখনো কোনো অতিরিক্ত তথ্য জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা ইয়াবা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ থাকবে।
ডিবি পুলিশের এই অভিযানকে জেলার মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।









