দেশে হাম পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ জন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দুই মৃত্যুর বিভাগভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১ হাজার ৩৬ জন। দুই হিসাব একসঙ্গে ধরলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪ জনে।
শুধু মৃত্যুই নয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫৩২ জন হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চট্টগ্রামে ভর্তি হয়েছে ২৭৩ জন। সিলেটে ১৫২, বরিশালে ১৩৯, খুলনায় ১৩২, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৪৭ এবং রাজশাহীতে ৩৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার বিভাগভিত্তিক চিত্র হলো—
| বিভাগ | নতুন ভর্তি |
|---|---|
| ঢাকা | ৫৩২ |
| চট্টগ্রাম | ২৭৩ |
| সিলেট | ১৫২ |
| বরিশাল | ১৩৯ |
| খুলনা | ১৩২ |
| ময়মনসিংহ | ৮২ |
| রংপুর | ৪৭ |
| রাজশাহী | ৩৩ |
| মোট | ১,৩৯০ |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য আরও বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৬ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৩ জন। অর্থাৎ এই সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং তাদের বড় একটি অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তবে প্রতিদিন নতুন করে রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমনটি বলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে গত এক দিনে ১ হাজার ৩৯০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা রোগীর চাপের মাত্রা বোঝাচ্ছে।
১৫ মার্চ থেকে হিসাব করলে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯৩ জনে। এর মধ্যে ২২ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত আক্রান্তের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব পরিসংখ্যান রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নজরদারির পরিধি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দিচ্ছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর পরিচিত উপসর্গ। শিশুদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বেশি হলেও অন্য বয়সের মানুষও আক্রান্ত হতে পারেন।
হামের ক্ষেত্রে শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, রোগের জটিলতা এবং মৃত্যুও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে অপুষ্টি বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মতো পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাব বলছে, একদিকে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০৪ হয়েছে, অন্যদিকে হাম ও উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।









