,

মাদানীর পরিচয়ে ওয়াজের নামে অর্থ হাতানো, গ্রেপ্তার ১

ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম মাদানীর নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. নুরুজ্জামান (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, নুরুজ্জামান একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতা হিসেবে কাজ করতেন এবং প্রায় দুই বছর ধরে একই কৌশলে বিভিন্ন আয়োজকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার পূর্বধলা থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নুরুজ্জামানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পূর্বধলা থানা-পুলিশ কটিয়াদী মডেল থানা-পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িটি নুরুজ্জামানের আত্মীয় কাউসারের বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নুরুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। এ উদ্দেশ্যে মাদানীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়।

এর মধ্যে ‘হাফেজ আয়েশা জান্নাত’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেকে মাদানীর শ্যালিকা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই পরিচয়ে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। কথাবার্তার একপর্যায়ে মাহফিলের তারিখ নির্ধারণ, বক্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা কিংবা অনুষ্ঠানসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার কথা বলে আয়োজকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া হতো।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা পাওয়ার পর প্রতারকরা আর প্রতিশ্রুত সেবা দিতেন না এবং অর্থ আত্মসাৎ করতেন। ফলে আয়োজকেরা প্রকৃত বক্তার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই ভুয়া পরিচয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়তেন।

ঘটনার বিষয়ে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী নিজেই বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা করেন। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের লেটিরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুজ্জামান প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে চক্রটির পুরো কার্যক্রম, অন্য সদস্যদের ভূমিকা এবং প্রতারণার মাধ্যমে মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন। জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডের তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও যৌতুক নিরোধ আইনসহ তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নুরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং চক্রটি এভাবে মোট কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বক্তা ও পরিচিত ব্যক্তিদের নাম-ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির ব্যবহৃত ডিভাইস ও সিমকার্ড পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার মাধ্যমে প্রতারণার পরিধি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।