চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে মাদকের টাকা না পেয়ে জান্নাত বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে মো. রাকিব (২৪)-এর বিরুদ্ধে। রোববার (১৭ মে) গভীর রাতে বালিয়া গ্রামের সাদেক খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৮ মে) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত রাকিব এবং তার ছোট ভাই রিফাত (১১)-কে আটক করে।
নিহত জান্নাত বেগমের স্বামী আব্বাস খান। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস করছেন এবং প্রায় দেড় বছর ধরে জান্নাত বেগমের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মো. রাকিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে অর্থ দাবি করতেন এবং টাকা না পেলে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার রাতে তিনি পুনরায় মায়ের কাছে টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কাঠের টুকরো দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে জান্নাত বেগম ঘটনাস্থলেই পড়ে যান।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, ঘটনার পরের দিন সকালে রাকিব বাড়িতে ফিরে মায়ের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে বলে প্রচার করার চেষ্টা করেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে পরিস্থিতি নাটকীয় করার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাত বেগমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এতে সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত রাকিব এবং তার ছোট ভাই রিফাতকে আটক করা হয়।
স্থানীয়রা এবং নিহতের ভাই মিলন অভিযোগ করেন, মাদকের টাকার বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করছেন এসআই আওলাদ হোসেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়ভাবে মাদকাসক্তি, পারিবারিক সহিংসতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
