,

মাইকেল জ্যাকসন হওয়ার স্বপ্ন কাজীকে দেখিয়েছিলেন অর্জিৎ

‘ফেম গুরুকুল’ থেকেই শুরু কাজী তৌকীর ও অর্জিত সিংয়ের বন্ধুত্ব। প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সেই সম্পর্কের উষ্ণতা এতটুকু কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে দুজনের পথ আলাদা দিকে এগোলেও একে অন্যের সাফল্য ও সংগ্রামের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে। বর্তমানে ‘বিগ বস ২০’-এর অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগী কাজী তৌকীরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সেই পুরোনো বন্ধুত্বের গল্প।

২০০৫ সালের গানের রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’ কাজীকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দিয়েছিল। একই অনুষ্ঠানের প্রতিযোগী ছিলেন অর্জিত সিংও। তবে তিনি সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পারেননি। সেই সময় অর্জিতের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। প্রতিযোগিতার চাপ ও বাদ পড়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে ক্যামেরার সামনে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কাজী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া পুরোনো এক ভিডিওতে দেখা যায়, অর্জিতকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন কাজী। তাঁকে সাহস না হারানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কাজী বলেছিলেন, শুধু পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তিনি ভোট দেবেন না। প্রতিযোগীর সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকি অর্জিতকে তিনি নিজেদের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবেও দেখেছিলেন। তবে চ্যালেঞ্জ পছন্দ করেন বলেই তাঁকে বাঁচানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

সেই সময়ের সম্পর্ক পরবর্তী বছরগুলোতে আরও গভীর হয়। ‘ফেম গুরুকুল’-এর পর অর্জিত অংশ নেন সনি টেলিভিশনের আরেক রিয়েলিটি শো ‘দস কা দস’-এ। অনুষ্ঠানটি খুব বেশি জনপ্রিয়তা না পেলেও সেখানে বিজয়ী হন অর্জিত এবং পুরস্কার হিসেবে পান ১০ লাখ রুপি।

কাজী তৌকীর পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওই অর্থ দিয়ে অর্জিত একটি স্টুডিও তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনেছিলেন। বিজয়ের পর তিনি কাজীকে বেশ কয়েকবার ফোনও করেছিলেন এবং নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কাজী তখন শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেননি। পরে দেখা হলে অর্জিত তাঁকে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান।

সেই সাক্ষাতের আরেকটি ঘটনা কাজীর স্মৃতিতে বিশেষভাবে রয়ে গেছে। তখন মাত্র ২২ বছরের অর্জিত কাজীকে বলেছিলেন, ভারতে তিনি একজন বড় পপ তারকা হতে পারেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মাইকেল জ্যাকসনের মতো তারকা হওয়ার সম্ভাবনাও কাজীর মধ্যে দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সে সময় কাজী কথাটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং চলচ্চিত্রে বড় ক্যারিয়ার গড়া।

অর্জিত অবশ্য নিজের বক্তব্যে অটল ছিলেন। কাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘আমি মজা করছি না। তোমার সেই সম্ভাবনা আছে।’ এমনকি কাজীকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি নিজের মনোযোগের কারণে কাজী তখন সেই প্রস্তাবগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি।

সময় অবশ্য অর্জিতের সেই দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। দেশ-বিদেশে তাঁর অসংখ্য অনুষ্ঠান এবং বিপুল শ্রোতৃসমাজ তৈরি হয়েছে। কাজী নিজেও স্বীকার করেছেন, অর্জিত যে জায়গায় পৌঁছানোর কথা বলেছিলেন, পরে বাস্তবেই তিনি সেখানে পৌঁছেছেন।

তবে দুজনের সাফল্যের তুলনা নিয়ে কাজীর মনে কোনো আক্ষেপ নেই। ‘ফেম গুরুকুল’-এ তিনি বিজয়ী হলেও অর্জিত সেরা পাঁচে উঠতে পারেননি—এই বিষয়টি সামনে এনে অনেকেই তাঁদের ক্যারিয়ার তুলনা করেন। কাজী জানিয়েছেন, এসব তুলনায় তিনি বিন্দুমাত্র ঈর্ষান্বিত নন। অর্জিতের সাফল্যে তিনি বরং আনন্দিত এবং নিজের জীবন ও অর্জন নিয়েও সন্তুষ্ট।

কাজীর কাছে সেই উপলব্ধির একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল ‘তুম হি হো’ গানটি শোনা। রাতে এমটিভিতে গানটি শুনেই তিনি কণ্ঠ চিনতে পেরেছিলেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সঙ্গে সঙ্গে অর্জিতকে ফোন করেন। কাজীর দাবি, অর্জিত তখনও বুঝতে পারেননি গানটি তাঁর ক্যারিয়ারে কত বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। কাজী তাঁকে জানান, তিনি এখন তারকা এবং তাঁর জীবন বদলে যাবে।

এরপর সাক্ষাৎকার, প্রচার ও একের পর এক গানের কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন অর্জিত যে পরদিন দেখা করার পরিকল্পনাও আর হয়ে ওঠেনি। কাজীর ভাষায়, এরপর গান এসেছে একের পর এক, আর ধীরে ধীরে ‘অর্জিত হয়ে উঠেছেন অর্জিত’।

অর্জিতের সাফল্যের পেছনে তাঁর শেখার আগ্রহের কথাও স্মরণ করেছেন কাজী। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি সংগীত পরিচালক প্রীতমের সঙ্গে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে সংগীতের প্রোগ্রামিং ও কারিগরি বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান কাজী। তাঁর মতে, অর্জিত শুধু গায়ক নন; সংগীতের আরও অনেক দিক সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান রয়েছে।

খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও অর্জিতের সাধারণ জীবনযাপন কাজীর কাছে বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তাঁর দাবি, বিপুল জনপ্রিয়তার পরও অর্জিত স্কুটি চালান, সাধারণ পোশাক পরেন এবং অন্য মানুষ তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে, তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না।

প্রায় ২০ বছর পরও সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ মিলেছে কাজীর ‘বিগ বস ২০’ যাত্রায়। অনুষ্ঠানে কাজীর অংশগ্রহণের পর অর্জিত তাঁর ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্ট ‘WhoAmI’ থেকে পুরোনো বন্ধুকে সমর্থন জানিয়ে লেখেন, কাজী সেখানে থাকায় তাঁকে প্রথমবারের মতো ‘বিগ বস’ দেখতে হবে।

রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগিতা থেকে শুরু হওয়া সেই সম্পর্ক আজও টিকে আছে। একজন গানে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন, অন্যজন অভিনয় ও বিনোদন জগতে নিজের পথ তৈরি করেছেন। সাফল্যের মাপকাঠি আলাদা হলেও কাজী ও অর্জিতের বন্ধুত্বের গল্পটি দেখায়, প্রতিযোগিতার মঞ্চে তৈরি হওয়া একটি সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে কীভাবে গভীর ও স্থায়ী হয়ে উঠতে পারে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।