কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল অবস্থিত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট বা রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার বেলা ১১টা থেকে এই ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, প্রথম ইউনিটটি সচল থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ত্রুটি মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ইউনিটটি পুনরায় চালু হতে অন্তত চার দিন সময় লাগতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) কর্তৃক পরিচালিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় অর্জন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের বিখ্যাত এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় প্রায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পটি নির্মিত হয়। দীর্ঘ নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয় এবং সব প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে প্রবেশ করে।
এদিকে গত মার্চ মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকেই বারবার কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়েছে প্লান্টটির দ্বিতীয় ইউনিটটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা, রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা ও অন্যান্য কারণে এই ইউনিটটির উৎপাদন ৩০ বারেও বেশি সময় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে। বারবার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। প্লান্টের প্রকৌশলীরা বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে দেখছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটি সচল করতে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।









