জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ভৈরবে দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবলীগ নেতা নিহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় মো. আল আমিন সৈকত (৪০) নামে সাবেক এক পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ওই সময় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তি সৈকতের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত আল আমিন সৈকত ভৈরব থানার ভৈরবপুর গ্রামের মৃত জসীমউদ্দীনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরও ছিলেন।

নিহতের শ্যালক মো. বাকিবিল্লাহ জানান, রাতে টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে অবস্থান করছিলেন সৈকত। হঠাৎ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যায় তারা।

হামলার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সৈকতকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে ভৈরবের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

পরিবারের সদস্যরা রাত প্রায় ৩টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সৈকতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুব রহমানও হামলা ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তবে কেন আল আমিন সৈকতের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো কারণ জানা যায়নি। হামলায় কারা জড়িত ছিল, সেটিও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও হামলার ধরন বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে কোনো পূর্ববিরোধ বা অন্য কোনো কারণের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় ভৈরবের স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত এগিয়ে গেলে হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর