,

রংপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ভিডিও করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার ২

রংপুর নগরীতে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, পরে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর সেনপাড়া ও কামারপাড়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দুজন হলেন সালমান, ২১, ও স্বপ্ন, ২০। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনই শিক্ষার্থী। তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলায় ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সালমানের। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ২ সেপ্টেম্বর তাকে স্বপ্নের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সালমান ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর মেয়েটির আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ব্যবহার করে আবারও তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সালমান ওই ছাত্রীর মায়ের ইনস্টাগ্রাম ইনবক্সে ধারণ করা ভিডিও পাঠান এবং এর বিনিময়ে টাকা দাবি করেন। ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের এই চেষ্টা বিষয়টি আরও গুরুতর করে তোলে। ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সালমানকে নগরীর সেনপাড়া এবং স্বপ্নকে কামারপাড়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালতে হাজির করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার শিকার ওই শিক্ষার্থী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এ ধরনের অভিযোগে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে যৌন নির্যাতন বা অনলাইনে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে ভয় দেখানোর ঘটনায় ভুক্তভোগীর ওপর সামাজিক ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে তদন্তের সময় ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য যাচাই এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মামলাটি এখন তদন্তাধীন। গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ না করে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।