ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস বর্তমানে দেশটির অন্যতম ক্ষমতাধর ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী এই কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির বিচারপতির নজরে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো, যিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ক্ষমতা ধরে রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত।
মোরায়েসের কঠোর অবস্থানের কারণে তার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট ইলন মাস্কও। মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বের টুইটার) ব্রাজিলে বলসোনারোর সমর্থকদের ভুয়া তথ্য ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায়, মোরায়েস সেটি ৪০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ মাস্ক তাকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দেন।
বলসোনারো এবং তার সমর্থকরাও মোরায়েসকে স্বৈরাচারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে, এমপি এদুয়ার্দো বলসোনারো, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মোরায়েসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্যও লবিং করেন।
‘জানদাও’ নামে পরিচিত মোরায়েস ব্রাজিলের রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। একদিকে ডানপন্থীদের ঘৃণার পাত্র, অন্যদিকে গণতন্ত্র রক্ষায় অটল একজন সাহসী বিচারপতি হিসেবে প্রশংসিত।
সাবেক বিচারমন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের আগে সাও পাওলো রাজ্যের নিরাপত্তা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোরায়েসের অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। সে সময় বামপন্থীরা তার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুলেছিল।
তবে বলসোনারোর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার রায় দিয়ে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে মোরায়েস তার দৃঢ় মনোভাবের প্রমাণ দিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় হুমকি এখন বলসোনারোর বিরুদ্ধে কূপচেষ্টার তদন্ত। অভিযোগ, লুলা দা সিলভা ও তার শীর্ষ সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং হত্যা পরিকল্পনাও এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল।
২০২২ সালের উত্তপ্ত নির্বাচনকালে মোরায়েস ভুয়া তথ্য দমন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এক্সে ডানপন্থী কিছু প্রভাবশালীর অ্যাকাউন্টও ব্লক করা হয়, যা ইলন মাস্কের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিন সন্তানের জনক মোরায়েস খুব কম সাক্ষাৎকার দেন এবং ফেব্রুয়ারিতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেন।
তিনি বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে কাউকে আক্রমণের অধিকার নয়। এটি স্বৈরশাসন সমর্থনের অধিকারও নয়।’
ব্রাজিলে বিচারকদের বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স ৭৫। সে হিসেবে মোরায়েসের এখনও প্রায় দুই দশক বাকি। ইতিমধ্যে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও তার নাম শোনা যাচ্ছে, যদিও তিনি কখনও এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
