যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মরিয়ম খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত নারী সকিনা বেগম (৬৫) ওই এলাকার লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মধ্যরাতে পরিবারের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়িকে আঘাত করেন মরিয়ম খাতুন। এতে ঘটনাস্থলেই সকিনা বেগমের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে সেটিকে একটি বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার দিন সকালে নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বাসায় খাবার প্রস্তুত না থাকায় বাইরে থেকে খাবার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মায়ের খোঁজ করলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকিনা বেগম বাইরে গেছেন। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তিনি আবারও মায়ের খোঁজ নিলে একই তথ্য দেওয়া হয়। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি থানায় অবহিত করেন।
এরপর রাত গভীর হলে শহিদুল ইসলাম ও তার বোন শাহিদা বেগম বাড়ির আশপাশে খোঁজ শুরু করেন। রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে তারা বাড়ির সামনে একটি বস্তা দেখতে পান। সেটি খুলতেই ভেতরে সকিনা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে সঙ্গে সঙ্গে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রসহ মরিয়ম খাতুনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে। মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
| সময় | ঘটনার বিবরণ |
|---|---|
| সকাল | শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে যান; ঘরে খাবার প্রস্তুত ছিল না |
| দিনের বেলা | পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় সকিনা বেগম বাইরে আছেন |
| রাত | বাসায় ফিরে শহিদুল আবারও মায়ের খোঁজ নেন, একই উত্তর পান |
| রাতের পর | সন্দেহ হলে থানায় খবর দেওয়া হয় |
| রাত সাড়ে বারোটার দিকে | বাড়ির সামনে বস্তায় মরদেহ উদ্ধার |
| পরবর্তী সময় | মরিয়ম খাতুন আটক এবং আলামত জব্দ |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এমন নৃশংস পারিবারিক সহিংসতা আগে কখনও দেখা যায়নি বলে তারা মন্তব্য করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং পুরো বিষয়টি ঘিরে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
