রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের পঞ্চম তলার ফুডকোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সদস্যরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফলে মোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আগুনে শপিং মলের কতটুকু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর এলাকার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক দুপুর পৌনে ২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শপিং মলের ফুডকোর্টে একাধিক খাবারের প্রতিষ্ঠান ও দোকান থাকায় আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা কর্মীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক দেখা দেয়। আগুনের সূত্রপাতের পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। পরে অতিরিক্ত একটি ইউনিট যুক্ত হওয়ায় আগুন মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়।
তবে আগুন কীভাবে লাগল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফুডকোর্টে রান্নার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সংযোগ কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগুনে খাবারের দোকানের সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, আসবাব কিংবা ফুডকোর্টের স্থাপনার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এ মুহূর্তে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পরিদর্শন ও তদন্তের ওপর নির্ভর করতে হবে।
বিমানবন্দরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শপিং মলের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য না পাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ, রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।










