নোয়াখালী সদর উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। আহত অবস্থায় ওই শিক্ষককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোবারক হোসেন এমরান একই ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে শিশুটির আচরণ ও পড়াশোনায় পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলেন তার বাবা-মা। সে আগের মতো পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল না। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকাও করতেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায় বলে দাবি পরিবারের। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন এমরান গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করেছেন। পরিবারের দাবি, ওই শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি পরিবারের কাছ থেকে জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন এবং তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষক নিজের বাসায় ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুটির বক্তব্য, পরিবারের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যাচ্ছে না।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়দের হাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের গণধোলাইয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আইনসম্মত নয়। অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আইনগত প্রক্রিয়াতেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে একদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। তাই তদন্তে ঘটনার সময়কাল, শিশুটির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের যোগাযোগ এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই মামলার আইনগত অগ্রগতি নির্ভর করছে।










