নেত্রকোনার মদনে রান্নাঘরে চা বানানোর সময় কুন্ডু মিয়া ওরফে এলাহি (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে ইয়াসিনের বিরুদ্ধে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে মদন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ইয়াসিনকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোরে নামাজ আদায় করেন কুন্ডু মিয়া। এরপর বাড়ির রান্নাঘরে গিয়ে চা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় পেছন থেকে তাঁর ছেলে ইয়াসিন একটি বটি দিয়ে বাবার ঘাড়ের পেছনে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আকস্মিক এই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান কুন্ডু মিয়া।
তাঁর চিৎকার ও আহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত রান্নাঘরে ছুটে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে বাবাকে আঘাত করার পর ইয়াসিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাদ্দিন করিম জানান, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াসিনের কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তাঁর মানসিক অবস্থার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহত কুন্ডু মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইয়াসিন কেন বাবাকে বটি দিয়ে আঘাত করেছেন, হামলার আগে তাঁদের মধ্যে কোনো কথা-কাটাকাটি বা বিরোধ হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে কুন্ডু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার বিষয়ে যাচাই শেষে তদন্তের গতিপ্রকৃতিও আরও পরিষ্কার হতে পারে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন বাবার সঙ্গে ছেলের এমন সংঘাতের কারণ কী, তা জানতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের জন্য পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ইয়াসিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










