নেত্রকোনায় সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা শহরের কুরপাড় মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ওই নেত্রীর নাম সৈয়দা সাদিয়া ইসলাম। তিনি এনসিপির নেত্রকোনা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে কুরপাড় এলাকার পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে সাদিয়া ইসলাম টাকা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইতি আক্তার, সুমি আক্তার, মোছা. প্রিয়া আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফ্যামিলি কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও কার্ডপ্রত্যাশীরা সাদিয়া ইসলামকে কুরপাড় মাস্টারবাড়ি এলাকায় আটক করেন। পরে তাকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের কাছে নিয়ে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত টাকা নেওয়া বা ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুরপাড় এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন ওই নারীকে পুলিশের কাছে নিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচজনের কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’কে ঘিরে মানুষের আগ্রহের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কোনো সুবিধা বা কার্ড পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাউকে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
এদিকে, এনসিপির নেত্রকোনা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া ইসলামকে আটকের বিষয়ে দলটির জেলা শাখার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার নিজের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, টাকা লেনদেনের বিষয় এবং ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










