জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বুয়েটে পাঁচ ঘণ্টার লোডশেডিং, ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রতিদিন মোট ৫ ঘণ্টা করে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ প্রাপ্তির অসামর্থ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই মূলত বুয়েট প্রশাসন এ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি জারি করা এক জরুরি নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নতুন সময়সূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। ঐ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়, ডিপিডিসি কর্তৃক নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী যখন জাতীয় গ্রিডের সংযোগ বন্ধ থাকবে, তখন বুয়েটের নিজস্ব ভারী জেনারেটরের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সমস্ত একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক কার্যালয় ও আবাসিক হলে বিকল্প বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে না। জ্বালানির নির্দিষ্ট বরাদ্দ সীমা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেটর ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির সুরাহায় ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আন্তরিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, দিন ও রাতের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পাঁচ দফায় এক ঘণ্টা করে মোট পাঁচ ঘণ্টা এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট বহাল থাকবে। নিচে বুয়েটে লোডশেডিংয়ের দৈনিক সময়সূচিটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

  • প্রথম ধাপ: সকাল ৬:০০ টা থেকে ৭:০০ টা

  • দ্বিতীয় ধাপ: সকাল ১০:০০ টা থেকে ১১:০০ টা

  • তৃতীয় ধাপ: দুপুর ২:০০ টা থেকে ৩:০০ টা

  • চতুর্থ ধাপ: মধ্যরাত ১২:০০ টা থেকে ১:০০ টা

  • পঞ্চম ধাপ: শেষ রাত ৩:০০ টা থেকে ৪:০০ টা

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে ডিপিডিসি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে তা আমাদের মোট চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় আমরা বাধ্য হয়েই এই জরুরি নোটিশ জারি করেছি। তবে আমরা সার্বিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে বিকল্প উপায়ে সংযোগ কিংবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই লোডশেডিংয়ের মেয়াদ যতটুকু সম্ভব কম রাখা যায়।’

ডিপিডিসি তাদের প্রযুক্তিগত ও সরবরাহজনিত সমস্যা কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার সঙ্গে সঙ্গেই বুয়েট ক্যাম্পাসের এই লোডশেডিং প্রক্রিয়া তুলে নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন এই প্রধান প্রকৌশলী। তবে বর্তমান এই সংকট ঠিক কতদিন ধরে চলবে কিংবা কবে নাগাদ আবার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। প্রতিদিনের এমন দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের ফলে বুয়েটের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি সংবেদনশীল ল্যাবরেটরি গবেষণা, আইটি ল্যাব এবং আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর