জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

তিতাস নদে নৌ-মহড়ায় জেলা ছাত্রলীগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুক চিরে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম আলোচনা ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে এ তোলপাড় শুরু হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী নদীপথে বেশ কয়েকটি ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, রোববার সকালের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরতলির তিতাস নদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হতে শুরু করেন। দুটি বড় নৌকা ও ট্রলারে করে সাধারণ কর্মীরা নদীতে অবস্থান নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি স্পিডবোটে চেপে সেখানে উপস্থিত হন দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন শোভন। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিকাইল হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। শোভন স্পিডবোট নিয়ে ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান এবং তিনি তাদের সঙ্গে হাত মেলান।

পরবর্তীতে তারা নদীসংলগ্ন নির্জন কোনো এক পাড়ে একটি অস্থায়ী সমাবেশে মিলিত হন। সেখানে তারা ১৫ আগস্টের স্মরণে একটি ব্যানার টানিয়ে দেন। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শাহাদাৎ হোসেন শোভন উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দলীয় সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে নানা ধরণের রাজনৈতিক স্লোগান দেন এবং উপস্থিত কর্মীরাও তার সাথে স্লোগানে কণ্ঠ মেলান।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে দেশের বাইরে থাকা এক ছাত্রলীগ কর্মীর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। আকাশ আহমেদ নামের প্রবাসে অবস্থানরত ওই কর্মী রোববার সন্ধ্যায় শোভন ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের নৌ-মহড়ার দুটি ভিডিও তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ফুটেজটি স্থানীয় রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক কৌতূহল ও নানা আলোচনার জন্ম দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ সারির নেতারা আত্মগোপনে থাকায় জলপথে তাদের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই চমক হিসেবে দেখছেন।

তবে এ কর্মসূচির সময় এবং স্থান নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনেরও নজরে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে দেখেছে। তবে এটি ঠিক কখন এবং তিতাস নদীর কোন নির্দিষ্ট স্থানে ধারণ করা হয়েছে, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অবস্থান শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ করে নদীপথে ছাত্রলীগের এই ঝটিকা শোডাউন ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর