দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় দুই দশক আগে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়া সৈয়দ শাহিদুর রহমান শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখলেন। সম্প্রতি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং দলটির সহযোগী সদস্য হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন। রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তন ও তাঁর অতীতের বিতর্ক নিয়ে চারদিকে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০৩ সালের এপ্রিলে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তাঁকে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগ পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি গুরুতর এক ঘুষকাণ্ডের মুখোমুখি পড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন নাসিম সুলতানা কনা নামের এক নারী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের কাছে বিচারক শাহিদুরের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জামিন দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান উদ্যোগ নেন। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিষয়টি তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে অভিযোগটি সরাসরি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবে এর কোনো ভিত্তি নেই তাও বলা যায় না। ফলে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া অনুচিত বলে মত দেয় কাউন্সিল।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি তাঁকে অপসারণের আদেশ দেন। আদেশের বিরুদ্ধে শাহিদুর রহমান আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেন। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিয়ে তাঁকে পুনর্বহালের আদেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই রায় স্থগিত করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির অপসারণের সিদ্ধান্তকেই বৈধ বলে চূড়ান্ত রায় দেন। এতকিছুর পরও জামায়াতে তাঁর যোগদান এবং দলের অবস্থান নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ২২ বছর আগের ওই ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, বরং স্রেফ সন্দেহের বশে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছিল। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করছেন, অতীতের ওই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই এবং জামায়াতে যোগ দিয়েই কেউ রাতারাতি শীর্ষ নেতা হতে পারেন না, কারণ তাঁকে ধাপে ধাপে নিয়ম মেনে কর্মী ও রুকন হতে হয়। সাবেক এই বিচারপতির রাজনৈতিক পথচলা আগামী দিনে নতুন কোনো আলোচনা তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।









