খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৬:০ পিএম

বার্কিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশে শরিয়া আইন চালুর গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, আফ্রিকার এই দেশ তার সার্বভৌমত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো ধর্ম রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নয় এবং দেশের আইনব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে না।
এক প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাওরে বলেন, বার্কিনা ফাসো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যেখানে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস পালনের অধিকার রয়েছে। তিনি নিজে মুসলিম হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক কাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাওরে বলেন, “আমি একজন মুসলিম এবং আমার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। একইভাবে বার্কিনা ফাসোর প্রতিটি নাগরিক—যে যে ধর্মের অনুসারী হোন না কেন—নিজ নিজ বিশ্বাস অনুসরণ করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, এই দেশে কখনো শরিয়া আইন চালু করা হবে না।”
সম্প্রতি দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার বিষয়টি উল্লেখ করে কেউ কেউ শরিয়া আইন প্রবর্তনের দাবি বা আলোচনা তুলেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাওরে সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয় রাষ্ট্রীয় আইন পরিবর্তনের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না।
বার্কিনা ফাসো পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খ্রিস্টান ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসের অনুসারীরাও বসবাস করেন। দেশটির সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় এবং রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্কিনা ফাসো রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের পরিচয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জাতীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাওরে তার বক্তব্যে জোর দিয়েছেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তার এই অবস্থান শরিয়া আইন নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটানোর পাশাপাশি দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।
মন্তব্য