খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫১ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ দেখা নিয়ে স্ত্রী-স্বামীর মধ্যে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের জেরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মো. আলাউদ্দিন রায়হান (২৭) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেশারপাড় (খাজুরিয়া) গ্রামের মাইজ্জা মিয়ার বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করেছে।
নিহত আলাউদ্দিন রায়হান কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি নিজেও সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে আসেন এবং পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সংসার শুরু করার পর স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে কানকিরহাট বাজারে বসে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করেন রায়হান। খেলা শেষ হওয়ার পর ভোরের দিকে বাড়ি ফেরেন। দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী মারজান আক্তার মমতাজের (১৮) সঙ্গে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়।
স্বজনদের দাবি, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্ত্রী অভিমান করে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। তখন রায়হান আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব দেননি। পরে সবার অগোচরে তিনি নিজের কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
কিছু সময় পর স্ত্রী ফিরে এসে রায়হানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশকে অবহিত করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে রায়হানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও, পুলিশ বলছে ঘটনার সব দিক যাচাই করে দেখা হচ্ছে। স্বজনদের বক্তব্য, স্থানীয়দের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য