,

কুড়িগ্রামে সার সংকট নিয়ে চরম উত্তেজনা, আসামি হয়ে গ্রামছাড়া কৃষক

কুড়িগ্রামে তীব্র সার সংকটকে কেন্দ্র করে কৃষকদের আন্দোলন, গুদাম থেকে সার লুট এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় পুরো জেলায় এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংকট নিরসনে সরকারিভাবে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে চরম আতঙ্ক নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, মামলার ভয়ে গ্রামছাড়া হয়েছেন অর্ধশতাধিক সাধারণ কৃষক।
চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সারের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। সরকারি ডিলারদের পয়েন্টে দীর্ঘ লাইন ধরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন কৃষকরা। অথচ স্থানীয় বাজারে বেশি দামে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছে। এই বৈষম্যের পেছনে মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। ক্ষোভের জেরে ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী, উলিপুর ও রাজীবপুর উপজেলায় ডিলারের গুদাম থেকে সার লুটের মতো ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এক হাজার টন সার বাড়তি বরাদ্দ দিলেও তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি এতটাই অবনতি হয়েছে যে, সার বিতরণে তদারকি করতে গিয়ে কৃষকদের তোপের মুখে পড়ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। গত কয়েক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন স্থানে মারধর ও অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে সার বিতরণকালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সার না পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকরা। এ সময় মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে তাকে উদ্ধার করেন। একই দিনে উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নেও অবরুদ্ধ হন আরেক কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার।
সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে। সার বিতরণের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুল আলমের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের দায়ের করা মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও তারা পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার পর থেকেই এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিযুক্ত কৃষকদের দাবি, তারা সার পাওয়ার দাবিতে শান্তিপূর্ণ বা ক্ষুব্ধ বিক্ষোভ করেছিলেন, কিন্তু কোনো কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলেননি।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এমন বৈরী পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করা তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন জানিয়েছেন, সবসময় এক ধরনের ভয় ও প্রাণনাশের আশঙ্কা নিয়ে তাদের মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের বাইরে কাউকে হয়রানি করা হবে না। তবে দ্রুত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল সার বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।