,

বান্দরবানে মারমা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

বান্দরবানে এক মারমা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যচিং মার্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জেলা শহরের শিশু পার্কসংলগ্ন তাঁর মালিকানাধীন সাইনি রিসোর্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ওই রিসোর্টে নিয়ে যেতেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। শুক্রবারও তাঁকে সেখানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় শৈক্যচিং মার্মার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী বান্দরবান শহরের জমজম গলি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, শৈক্যচিং মার্মা দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে সাইনি রিসোর্টে নিয়ে যেতেন। শুক্রবারও একইভাবে সেখানে নেওয়ার পর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার একপর্যায়ে রিসোর্টের ভেতর থেকে তরুণীর চিৎকার শুনতে পান পাশের শিশু পার্কে অবস্থানরত দর্শনার্থী ও পথচারীরা। চিৎকার শুনে তাঁরা রিসোর্টের সামনে জড়ো হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শৈক্যচিং মার্মাকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের একটি পরিচিত স্থানের পাশে অবস্থিত রিসোর্টে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, অভিযোগের বিস্তারিত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ

ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি সাইনি রিসোর্টের নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলমের অভিযোগ, পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরুল আলমের আরও অভিযোগ, রিসোর্টটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছে। তবে তাঁর এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রিসোর্টটির নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র কিংবা সেখানে কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভূমির যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একইভাবে কোনো স্থাপনাকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে সেগুলোও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং ধর্ষণের মামলাকে পৃথক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করা জরুরি। একটি অভিযোগের সত্যতা অন্য অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ করে না। প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, শৈক্যচিং মার্মার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযোগের তদন্ত করছে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, তদন্তের অগ্রগতি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর বক্তব্য গ্রহণ, প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘটনার সময় রিসোর্টের ভেতরে বা আশপাশে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কেউ কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন কি না এবং ঘটনাস্থল থেকে কোনো প্রাসঙ্গিক আলামত পাওয়া যায় কি না, তা তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তাঁকে যেন সামাজিক চাপ, ভয়ভীতি কিংবা হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শৈক্যচিং মার্মা এনসিপির জেলা পর্যায়ের নেতা হওয়ায় ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবেও আলোচনায় আসতে পারে। তবে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বর্তমানে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, আদালতে কী উপস্থাপন করা হয় এবং অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই সঙ্গে রিসোর্টটির নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।