ভারত থেকে দর্শনা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেল কোচ। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের (RITES) সঙ্গে ২০২৪ সালের মে মাসে ২০০টি কোচ আমদানির যে চুক্তি হয়েছিল, এটি তার প্রথম চালান। এর আগে গত বছর ভারত থেকে উপহার হিসেবে ২০টি লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিনও বাংলাদেশে এসেছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের রেল পরিবহনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়ানো।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কোচ আমদানিতে গড় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। একই মানের কোচ ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হলে শ্রমমূল্য ও পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণে প্রতিটির জন্য প্রায় ১২ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারত। সে বিবেচনায় ভারত থেকে কোচ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের পাঞ্জাব থেকে সরাসরি রেলপথে দর্শনা সীমান্ত হয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়েছে, যা পরিবহনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় রেল কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহ বাংলাদেশের রেল পরিবহনব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু নতুন কোচ বা ইঞ্জিন সংগ্রহ করলেই রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। এসব সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল, সচল স্টেশন, উন্নত রেললাইন, কার্যকর সংকেতব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা, আরাম ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
রেলপথ বেড়েছে, কিন্তু সেবার মান কি বেড়েছে?
বাংলাদেশে রেলপথ সম্প্রসারণের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রেললাইনের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ২ হাজার ৬০৩ দশমিক ৯২ কিলোমিটার। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত রেল অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তান আমলের ২৫ বছরে রেলপথের দৈর্ঘ্য বেড়েছিল ২৫৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার।
স্বাধীনতার পর ১৯৭১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে রেলপথের দৈর্ঘ্য বাড়ার পরিবর্তে ২৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার কমে যায়। পরবর্তী সময়ে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬৫ কিলোমিটার বৃদ্ধি পায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন গতি দেখা গেছে। তবে রেলপথের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলেই যে ট্রেন চলাচল, যাত্রী পরিবহন কিংবা পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা একই অনুপাতে বাড়বে, এমন নয়। একটি রেলব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা, ট্রেনের সংখ্যা, ইঞ্জিন ও কোচের প্রাপ্যতা, সংকেতব্যবস্থার আধুনিকতা এবং কর্মীদের দক্ষতার ওপর।
নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোথাও রেললাইন থাকলেও পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকলে যাত্রীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। আবার স্টেশন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকলে সেটি পুরোপুরি চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে পরিচালন সক্ষমতার সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জনবান্ধব রেলওয়ে গড়তে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ
বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরও কার্যকর, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার এবং সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি উদ্যোগ অগ্রাধিকার পেতে পারে।
১. বাড়াতে হবে সচল কোচ ও লোকোমোটিভের সংখ্যা
রেলওয়ের পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম শর্ত হলো পর্যাপ্তসংখ্যক সচল কোচ ও লোকোমোটিভ নিশ্চিত করা। চাহিদার তুলনায় ট্রেনের আসনসংখ্যা কম হলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছুটির দিন, ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় এই চাপ আরও বাড়ে।
পর্যাপ্ত কোচ ও ইঞ্জিন থাকলে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত ট্রেন চালু করা কিংবা বিদ্যমান ট্রেনে কোচের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এতে টিকিটের সংকট কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়ম প্রতিরোধে স্বচ্ছ টিকিটিং ব্যবস্থা, কার্যকর নজরদারি এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। শুধু কোচের সংখ্যা বাড়ালেই এসব অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
নতুন কোচ সংগ্রহের পাশাপাশি পুরোনো কোচ ও ইঞ্জিনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ, কেনা সম্পদের বড় অংশ দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকলে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না।
২. শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে
রেলওয়ের জনবলসংকট কার্যক্রম পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রায় ৪৩ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এই হার সঠিক হলে তা রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করার কথা।
বিশেষ করে স্টেশনমাস্টার, সংকেতব্যবস্থার কর্মী, প্রকৌশল বিভাগের জনবল এবং অন্যান্য পরিচালন-সংশ্লিষ্ট পদে কর্মীর ঘাটতি থাকলে স্টেশন পরিচালনা ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন স্টেশন প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে পুরোপুরি চালু করা না গেলে সেই বিনিয়োগের কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এ কারণে শূন্যপদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করে জরুরি পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু নিয়োগ দিলেই চলবে না; কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব বণ্টন এবং কাজের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ জনবল ছাড়া আধুনিক অবকাঠামো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
৩. পুরোনো রেললাইন সংস্কার ও সংকেতব্যবস্থার আধুনিকায়ন
রেললাইনের অবস্থা ট্রেনের গতি, নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথে ট্রেনের গতি সীমিত রাখতে হতে পারে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ছোটখাটো ত্রুটিও বড় ধরনের পরিচালন সমস্যার কারণ হতে পারে।
তাই ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার, নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের মেরামতের ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।
সংকেতব্যবস্থার আধুনিকায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো অ্যানালগ পদ্ধতির পরিবর্তে উপযোগী স্বয়ংক্রিয় সংকেতব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য ট্রেন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ চালু করা গেলে ট্রেন চলাচল আরও দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে কোন পথে কী ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট রুটের অবস্থা, ট্রেন চলাচলের ঘনত্ব, নিরাপত্তার চাহিদা এবং ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে।
ব্যস্ত রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী ডাবল লাইন নির্মাণ বা বিদ্যমান একক লাইন সম্প্রসারণ করা হলে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়তে পারে। কিন্তু এসব প্রকল্পের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ করা জরুরি।
৪. যাত্রীসেবার মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে
একজন যাত্রীর কাছে রেলওয়ের সাফল্য শুধু নতুন লাইন বা নতুন ট্রেনের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। ট্রেন সময়মতো ছাড়ছে কি না, গন্তব্যে যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে কি না, আসন ও অন্যান্য সুবিধা পর্যাপ্ত কি না, কামরা পরিষ্কার আছে কি না—এসব বিষয়ই তাঁর অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে।
এ কারণে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর সময়সূচি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনগত সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। ট্রেন দেরিতে চললে যাত্রীদের সঠিক তথ্য জানানো এবং বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করার ব্যবস্থাও থাকা উচিত।
কামরা, শৌচাগার ও অন্যান্য যাত্রীসুবিধা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ট্রেনে সরবরাহ করা খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা দরকার। যাত্রীদের নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিও সেবার মানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রেলওয়ের প্রতিটি রুটে যাত্রীসেবার মান মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সূচক চালু করা যেতে পারে। সময়মতো ট্রেন চলাচল, বাতিলের হার, পরিচ্ছন্নতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করলে কোথায় কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, তা সহজে শনাক্ত করা যাবে।
৫. প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আয় বাড়াতে হবে
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেলওয়ের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও যাত্রীবান্ধব করা সম্ভব। ট্রেনের অবস্থান জানার জন্য রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হলে যাত্রীরা মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ট্রেন কোথায় আছে এবং কখন পৌঁছাতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
তবে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইন টিকিটিং ও যাত্রী তথ্যব্যবস্থার উন্নয়ন টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং অনিয়ম কমাতে সহায়ক হতে পারে।
রেলওয়ের আয় বাড়ানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো পণ্য পরিবহন। দেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো গেলে রেলপথের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপুল পরিমাণ পণ্য দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহনের ক্ষেত্রে রেল কার্যকর বিকল্প হতে পারে, যদি পরিবহন ব্যয়, সময় এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা প্রতিযোগিতামূলক থাকে।
এ জন্য বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, উপযুক্ত পণ্য টার্মিনাল নির্মাণ এবং ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য সময়সূচি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে পণ্য পরিবহন বাড়ালেই আয় নিশ্চিতভাবে বাড়বে না। পরিচালন ব্যয়, ভাড়া, অবকাঠামোর সক্ষমতা এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে।
উন্নয়নের মাপকাঠি হোক যাত্রীর সন্তুষ্টি
বাংলাদেশের রেলওয়ের উন্নয়নে নতুন রেললাইন নির্মাণের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশের যেসব অঞ্চলে রেল যোগাযোগ নেই, যেসব রুটে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে কিংবা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে নতুন সংযোগ প্রয়োজন, সেখানে পরিকল্পিত বিনিয়োগ জরুরি। তবে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ভারত থেকে নতুন কোচ আসা বাংলাদেশের রেল পরিবহনব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু এসব কোচ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে, কতসংখ্যক অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে এবং সেবার মান কতটা উন্নত হচ্ছে—তার ভিত্তিতেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়ন করা উচিত।
রেলওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাই শুধু কত কিলোমিটার রেললাইন নির্মিত হলো, তা নয়; বরং কতটি ট্রেন নিয়মিত চলছে, যাত্রীরা কত সহজে টিকিট পাচ্ছেন, কতটা নিরাপদে ভ্রমণ করছেন এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন কি না, সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
জনগণের অর্থে নির্মিত রেল অবকাঠামো থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি পুরোনো লাইন সংস্কার, জনবল নিয়োগ, আধুনিক সংকেতব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রেলওয়ের আয় ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রীদের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রেলপথের দৈর্ঘ্য বাড়ানো উন্নয়নের একটি সূচক হতে পারে, কিন্তু উন্নয়নের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করে সেবার মানের ওপর। বাংলাদেশের রেলওয়েকে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব করতে হলে ‘যাত্রী আগে’—এই নীতিকে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে। রেল হতে হবে নিরাপদ, আরামদায়ক, সময়ানুবর্তী এবং আধুনিক।
লেখক: ড. মীজানুর রহমান
প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং পূর্বে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়; যার মধ্যে কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ অন্যতম। একজন সক্রিয় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লেখেন এবং টিভি টকশোতে মতামত ব্যক্ত করে থাকেন।








