খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

গত মাসেই বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারের পর, আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে এক নতুন ও শক্তিশালী পরিকল্পনা নিয়ে ফিরছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দীর্ঘ ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় উন্নতি করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের স্কোয়াড ও টিম ম্যানেজমেন্টে বড় ধরণের রদবদল এনেছে। শান মাসুদের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি শক্তিশালী দল নিয়ে তারা এবার বাংলাদেশ সফরে আসছে, যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ মুখ।
Table of Contents
বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বিদেশি দলগুলোর জন্য সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রতিকূলতা কাটাতে পাকিস্তান তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্পটি আয়োজন করেছে করাচির হানিফ মোহাম্মদ হাইপারফরম্যান্স সেন্টারে। বর্তমান টেস্ট দলের প্রধান কোচ এবং সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ এই পরিকল্পনার নেপথ্যে থাকা বৈজ্ঞানিক ও ভৌগোলিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান যে, করাচির ভ্যাপসা গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতার সঙ্গে মিরপুর বা সিলেটের আবহাওয়ার ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। এই ক্যাম্পে ক্রিকেটাররা নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কন্ডিশনে টিকে থাকার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অর্জন করছেন।
পাকিস্তানের এবারের সফরে সবচেয়ে বড় চমক তাদের কোচিং সেট-আপ। পিসিবি এবার পেশাদারিত্বের পাশাপাশি সাবেক কিংবদন্তিদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়েছে। দলের প্রধান কোচের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন সরফরাজ আহমেদ। তাঁর সহকারী হিসেবে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আসাদ শফিক এবং বোলিং বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সাবেক গতি তারকা উমর গুল। এছাড়া শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত উন্নয়নের জন্য রয়েছেন গ্রান্ট লুডেন এবং আবদুল সাদ।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সরফরাজ আহমেদ বলেন,
“আমার প্রাক্তন সতীর্থরা যখন কোচিং স্টাফে থাকেন, তখন একে অপরের চিন্তা ও কৌশল বোঝা সহজ হয়। উমর গুল এবং আসাদ শফিকের ক্রিকেটীয় মেধা দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমানভাবে উদ্দীপ্ত করতে আত্মবিশ্বাসী।”
ঘোষিত ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে অধিনায়ক শান মাসুদের অধীনে রয়েছে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটারদের শক্তিশালী ভিত্তি। তবে এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো চারজন অনভিষিক্ত তরুণ ক্রিকেটার—আমাদ বাট, আবদুল্লাহ ফজল, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে তাঁদের এই মেগা সিরিজের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পিএসএল ও ক্রিকেটারদের ফর্ম: বাংলাদেশ সফরের ঠিক আগে সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে। বাবর আজম পিএসএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ৫৮৮ রান করে এবং দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করছেন। প্রধান কোচ সরফরাজ মনে করেন, বাবরের এই বিধ্বংসী ফর্ম টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভকে দৃঢ় করবে। বিপরীতে, মোহাম্মদ রিজওয়ানের পিএসএল যাত্রা ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতায় ভরা। তাঁর নেতৃত্বে নবাগত দল ‘রাওয়ালপিন্ডিজ’ লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে এবং তিনি নিজে সংগ্রহ করেছেন ২০৪ রান। তবে টেস্ট ফরম্যাটে রিজওয়ানের লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে কোচিং স্টাফরা পূর্ণ আস্থাশীল।
আগামী ২ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিএসএল ফাইনালের ডামাডোল শেষ হওয়ার পরপরই পাকিস্তান দল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে। সিরিজের সূচি অনুযায়ী:
প্রথম টেস্ট: ৮ মে, ২০২৬ – মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা।
দ্বিতীয় টেস্ট: ১৬ মে, ২০২৬ – সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার গ্লানি এখনো পাকিস্তানের মনে টাটকা। সেই ঐতিহাসিক হারের প্রতিশোধ নেওয়া শান মাসুদের দলের জন্য এখন সম্মানের লড়াই। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে আবারও ‘পাকিস্তান বধ’ করতে মুখিয়ে আছে টাইগাররা।
মন্তব্য