ফ্রান্স ও জার্মানি পুতিনের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিল

ফ্রান্স এবং জার্মানি শুক্রবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনের জন্য আরও চাপ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যদি ইউক্রেনীয় নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করতে না আসেন, তাহলে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।

এএফপি জানায়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, যদি পুতিন ইউক্রেনীয় নেতা জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা করার মতো হবে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎজ মন্তব্য করেন, পুতিন সম্ভবত এই ধরনের বৈঠক করতে ‘অনিচ্ছুক’ এবং রাশিয়ার তিন বছরের আক্রমণের পর মনে হচ্ছে যুদ্ধটি ‘আরও অনেক মাস’ চলবে।

হোয়াইট হাউস পরবর্তীতে জানায় যে, ট্রাম্প এখনো যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনেকটাই থমকে গেছে।

বৃহস্পতিবার কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় ২৫ জন নিহত হওয়ার পর ফ্রান্স ও জার্মানি ইউক্রেনকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দেয় এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা বিষয়ে একটি কৌশলগত সংলাপ শুরু করার সম্মতি দেয়।

ম্যাখোঁ আশা প্রকাশ করেছেন যে পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকটি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে, তবে যদি তা না হয়, তাহলে তারা রাশিয়ার ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ট্রাম্প ‘হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য অবিচলভাবে কাজ করছেন’, যা বিশ্বের জন্য একটি ইতিবাচক বিষয় হবে।

এদিকে মের্ৎজ বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন আরও অনেক মাস চলতে পারে এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা ইউক্রেনকে কখনোই পরিত্যাগ করব না।”

জার্মান চ্যান্সেলর মনে করেন, পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, যা তিনি রাশিয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন।

এদিন কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় ২৫ জন নিহত হওয়ার পর, ফরাসি দক্ষিণ বন্দর নগরী টলনে দুই নেতা বৈঠকটি আয়োজন করেন।

জেলেনস্কি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, “এই হামলায় ২৫ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি শিশু রয়েছে। এটি একেবারেই জঘন্য এবং পুতিনের শান্তির প্রতিশ্রুতি না দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ড চালানোর আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়।”

টলনে ম্যাখোঁ ও মের্ৎজ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ফ্রান্স ও জার্মানি ইউক্রেনকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করবে।