ফেনী: ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া বিপজ্জনক অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্ত্রগুলো এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে সরকারি বাহিনী এবং ruling আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্বিচারভাবে গুলি চালায়। এই সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হন। ৫ আগস্টের দিন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় জেলার বিভিন্ন থানার নিরাপত্তা শাখা থেকে মোট ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৫টি পিস্তল ও ২টি শটগান এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
১৭ মাস পেরিয়েও অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত অধিকাংশ অবৈধ অস্ত্রের হদিস মেলেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, নির্বাচনের সময় এসব অস্ত্র আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফেনী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন,
“এসব অস্ত্র দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো এগুলো উদ্ধার করা হয়নি। এ ধরনের অস্ত্র ও অস্ত্রধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার অত্যন্ত জরুরি।”
ফেনী-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক বলেন,
“নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী, তবে আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। এখানে এখনও অতীত ও বর্তমানের সন্ত্রাসী সক্রিয়।”
অস্ত্র উদ্ধারে সরকারি প্রচেষ্টা সীমিত থাকায় স্থানীয় জনগণ এবং আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র ৯৫টি লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েছে। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক যুবক বলেন,
“আমাদের থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো এখনো জব্দ করা যায়নি।”
ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম জানান,
“২৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, এবং এখনও সাতটি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ৪ আগস্টের ঘটনায় ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আরও একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।”
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে লুট অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত। ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন,
“জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব অভিযান চালাচ্ছে। নির্দিষ্ট তথ্য পেলে অভিযান আরও সফল হবে।”
নিচের টেবিলে ৫ আগস্টের লুট হওয়া অস্ত্র ও উদ্ধার পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| অস্ত্রের ধরন | মোট লুট হওয়া | উদ্ধারকৃত | এখনও উদ্ধার হয়নি |
|---|---|---|---|
| পিস্তল | ৫ | ০ | ৫ |
| শটগান | ২ | ০ | ২ |
| অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র | ২৬ | ২৬ | ০ |
| মোট | ৩৩ | ২৬ | ৭ |
ফেনীতে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, অভিযান অব্যাহত আছে, তবে সাধারণ মানুষ এখনও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চিত।
