নিশ্ছিদ্র নজরদারিতে কুষ্টিয়ায় অস্ত্র জব্দ অভিযান

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) একটি বড় পরিমাণ বিদেশি ও দেশীয় তৈরি অস্ত্র জব্দ করেছে। এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান।

বুধবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, এই অভিযান মঙ্গলবার ভোর ১:৩০ মিনিটে দৌলতপুরের পোল্ট্রি মর চর এলাকায় সম্পন্ন হয়েছে। এলাকা বিজিবি নির্বাচনী ডিউটির জন্য মোতায়েন ক্যাম্প থেকে প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার দূরে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।

গোপন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছে, যা অস্ত্র পাচার ও সীমান্তের অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে অতীতেই পরিচিত। তাই ৪৭ বিজিবি থেকে বিশেষ টহল দলকে সেখানে প্রেরণ করা হয়। অভিযানে ড্রোন ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়িত বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা হয় এবং অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

অবহেলিত অবস্থায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের বিবরণ নিম্নরূপ:

ধরণপরিমাণ
বিদেশি পিস্তল
ম্যাগাজিন
গুলি (রাউন্ড)
দেশীয় তৈরি শুটার গান
বড় কুড়াল
ছোট কুড়াল
আনারস/হা
ছাপার
ছুরি
মোট দেশীয় ধারালো অস্ত্র১৪

এই অভিযানকালে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা যায়নি। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ দৌলতপুর থানা হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিজিবি কর্মকর্তা জানান, ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তার পর থেকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ১৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে এবং মোট আটটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় শুটার গান, ১২টি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি, ও ১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

ক্যাটাগরিপরিমাণ
বিদেশি পিস্তল
দেশীয় শুটার গান
ম্যাগাজিন১২
গুলি (রাউন্ড)১৬
দেশীয় ধারালো অস্ত্র১৪
গ্রেফতার১৩

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল, অস্থায়ী চেকপোস্ট এবং প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ত্র পাচার, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম রোধ করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এমন অভিযান চলমান থাকবে যাতে সীমান্ত অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।

এই অভিযান কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই নয়, বরং নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য অশান্তি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।