ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন তাঁর নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা এবং বিস্ফোরক-সংক্রান্ত মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হারুন অর রশিদ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। সেখান থেকেই মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
হারুন অর রশিদ ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর কারণে তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলা, সহিংসতা ও বিস্ফোরণের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে প্রতিটি মামলার অভিযোগ, প্রমাণ ও তদন্তের অগ্রগতি পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়।
হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইন অনুযায়ী, কোনো মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া বা গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।









