,

ফিলিপাইনের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ফিলিপাইনের কাছে ৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় লড়াইয়ে টিকে থাকলেও শেষ দিকে তিনটি গোল হজম করে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। অন্যদিকে, টানা দুই জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে ২০২৭ সালে চীনে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফিলিপাইন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে মনোযোগী ছিল ফিলিপাইন। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে। তবে গোলরক্ষক মেঘলা রানি রায়ের দৃঢ়তায় শুরুতে গোল হজম করতে হয়নি দলকে। ২৩ মিনিটে ফিলিপাইনের কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। তাঁর এই সেভে ম্যাচে টিকে থাকে বাংলাদেশ।

এর পাঁচ মিনিট পর আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে ফিলিপাইন। আরিনা সোফিয়ার নেওয়া শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। অল্পের জন্য ব্যবধান গড়তে পারেনি প্রতিপক্ষ। একের পর এক আক্রমণের মুখেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তখন পর্যন্ত গোল ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।

হাইড্রেশন ব্রেকের পর বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে দলটি। এতে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরির সুযোগও আসে। ৪৩ মিনিটে সতীর্থের ক্রস থেকে হেড করেন মৌসুমী। কিন্তু তাঁর নেওয়া শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। গোলের এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও একটি বড় সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন আলপি আক্তার। তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। গোলের এত কাছে গিয়েও জালের দেখা না পাওয়ায় হতাশ হতে হয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। প্রথমার্ধে গোল না হওয়ায় বিরতির পর দুই দলই নতুন করে সুযোগ তৈরির অপেক্ষায় ছিল।

বাংলাদেশের প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ভাঙে ৭৩ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে ফিলিপাইনের একটি ক্রস বক্সে ঢুকে পড়ে। বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডার বলটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারায় সেটি গিয়ে পড়ে মায়া রোজ বাসকারার পায়ে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি। এই গোলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় ফিলিপাইন এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নেয়।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু আক্রমণে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ দিকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফিলিপাইন।

নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন নোয়েল্লে গ্রানজার। এরপর যোগ করা সময়ে আবারও জালের দেখা পান তিনি। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত হয়। শেষ মুহূর্তে পরপর দুই গোল হজম করে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ফিলিপাইন। বাছাইপর্বের এই সাফল্য দলটিকে ২০২৭ সালে চীনে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য বাছাইপর্বের যাত্রা এখানেই শেষ।

ম্যাচে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং প্রথমার্ধে তৈরি হওয়া গোলের সুযোগ ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমীর হেড ও আলপি আক্তারের ক্রসবারে লাগা শট দলটির আক্রমণাত্মক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতে না পারা এবং শেষ দিকে রক্ষণভাগের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে আক্রমণে আরও কার্যকর হওয়া এবং ম্যাচের শেষ পর্যন্ত রক্ষণে মনোযোগ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শেষ বিশ্লেষণধর্মী অনুচ্ছেদটি বাদ দিনম্যাচের সময়ক্রম আরও সংহত করুন

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।