,

তাজমিন হত্যা তদন্তে কক্সবাজার থেকে রাজু আটক

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে কক্সবাজার থেকে রাজু নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে এক নাবালিকাকে প্ররোচিত করে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর তাঁকে আটক করেন।

রাজুকে আটকের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সাদা পোশাকে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় রাজুর সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কিছুটা ধস্তাধস্তিও হয়। তবে আটকের সময় ঠিক কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) অর্ণব জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তাজমিন হত্যাকাণ্ডে রাজুর সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কোনো হত্যাকাণ্ডের তদন্তে শুধু সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয় নয়, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য দিকও বিবেচনায় নিতে হয়। এ কারণে তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এক নাবালিকাকে যেভাবে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে বিপদের মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে ওই নাবালিকাকে কবে কক্সবাজারে নেওয়া হয়েছিল, কী পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং রাজুর ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তার মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ। তাজমিন কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কী পরিস্থিতিতে সে বাড়ির বাইরে ছিল এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।

রাজুকে আটকের সঙ্গে তাজমিন হত্যার সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন তথ্য তদন্ত কর্মকর্তা দেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নাবালিকাকে প্ররোচিত করে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগটি আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

আটকের পর রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে বা তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রাজুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো তদন্তের বিষয়। রাজুর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাদান পর্যালোচনার পরই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।