,

চেক জালিয়াতির মামলায় আইনজীবী কারাগারে, অর্থের অঙ্ক ৩৬ লাখ টাকা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ব্যাংকের চেক চুরি এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় হুমায়ুন কবির হাওলাদার নামে এক আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। চেকটিতে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা লিখে তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আদালতের জারিকারক মো. মাসুদ রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল)। তদন্তে চেক জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত আইনজীবী হুমায়ুন কবিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হুমায়ুন কবির হাওলাদার লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আলম জানান, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে গত ৭ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। রোববার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।

যেভাবে চেক জালিয়াতির অভিযোগ

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ইউছুফ আলী রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের আত্মীয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মরিয়মের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দরগঞ্জ শাখার একটি চেক কৌশলে নিয়ে যান হুমায়ুন।

পরে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা উল্লেখ করে মরিয়ম বেগমের স্বাক্ষর জাল করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর চেকটি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। তবে চেকে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে ব্যাংকে সংরক্ষিত স্বাক্ষরের অমিল দেখতে পেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মরিয়মকে বিষয়টি জানায়। এভাবেই কথিত জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।

এ ঘটনায় মরিয়মের স্বামী ইউছুফ আলী হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে রায়পুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন সহকারী পুলিশ সুপারকে (রায়পুর সার্কেল)।

তদন্তে স্বাক্ষর পরীক্ষার তথ্য

মামলার তদন্তে পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করে। আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হস্তলিপি বিশেষজ্ঞের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চেকের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতেই হুমায়ুন কবির রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

তবে আদালতের এই আদেশকে মামলার চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এবং আসামিদের দায় নির্ধারণ আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েও সমাধান হয়নি

লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, সমিতির সভাপতি হিসেবে আদালত তাঁকে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নিতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ জন্য তাঁরা সাত দিনের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু বাদীপক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।

চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলাটি এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য, অন্যদিকে বাদী ও আসামিপক্ষের অবস্থান—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। অপর আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।