বিচারপতিকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত

কুমিল্লায় একটি সামাজিক সেবা সংগঠনের অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের পর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তাকে নতুনভাবে গঠিত বিচারিক বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত না করার মাধ্যমে কার্যত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি উচ্চ আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে মোট ৬৩টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন। তবে ওই তালিকায় বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সাধারণভাবে এ ধরনের বেঞ্চ পুনর্গঠন বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার প্রশাসনিক অংশ হলেও নির্দিষ্ট কোনো বিচারককে অন্তর্ভুক্ত না করা হলে সেটি কার্যত তাকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সমান হয়ে দাঁড়ায়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত একটি সামাজিক সেবা সংগঠনের অনুষ্ঠানে। সেখানে বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বিচারপতি পরিচয় দিয়ে কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে হুমকিসূচক আচরণও করেন, যা পুরো অনুষ্ঠানস্থলে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে ওই ঘটনার একটি দৃশ্যচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি বিচার বিভাগীয় অঙ্গনেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয় বলে জানা গেছে। বিচারকদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলে সাধারণত প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।

বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নান ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি পিরোজপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। বিচারিক অভিজ্ঞতা থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

বিষয় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনার তারিখ৩ এপ্রিল
ঘটনার স্থানকুমিল্লা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিচারপতি মো. আব্দুল মান্নান
ঘটনার ধরনসামাজিক সেবা সংগঠনের অনুষ্ঠানে আচরণগত অভিযোগ
প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণকারীপ্রধান বিচারপতি
বর্তমান অবস্থাবিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে
বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ৯ অক্টোবর ২০২৪
পূর্ববর্তী পদজেলা ও দায়রা জজ, পিরোজপুর

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার বিভাগের মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও জনআস্থার সঙ্গে বিচারকদের আচরণ সরাসরি সম্পর্কিত। তাই কোনো বিচারকের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রশাসনিক পর্যায়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় অঙ্গনে আলোচনা চলমান রয়েছে।