নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের আমতলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি সংক্রান্ত বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এ সংঘর্ষে সোমা আক্তার (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলা গ্রামের নূরুল ইসলাম ও তার ফুফাতো ভাই শামসুদ্দিনের মধ্যে একটি জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বহুবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না আসায় বিরোধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। বুধবার সকালে বিতর্কিত ওই জমিতে এক পক্ষ মাটি কাটার কাজ শুরু করলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। লাঠি, দা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় সোমা আক্তারকে দ্রুত কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোমা আক্তার ওই গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় গ্রামে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
আহতদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো—
| নাম | বয়স | পরিচয় |
|---|---|---|
| আসমা | ৪৫ | ইদ্রিসের স্ত্রী |
| সোহেল | ৩৬ | কুদ্দুসের ছেলে |
| হারুনা | ৬০ | মৃত উসমানের স্ত্রী |
| শিকা | ১৮ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| শারমিন | ২৫ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| নূরুল ইসলাম | ৬০ | বিরোধে জড়িত পক্ষ |
| শাহিন মিয়া | ৩২ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| ইদ্রিস মিয়া | অজানা | স্থানীয় বাসিন্দা |
| সাত্তার মিয়া | অজানা | স্থানীয় বাসিন্দা |
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
কেন্দুয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চললেও তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ প্রাণহানি ও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
