খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই মে ২০২৬, ১২:০ এএম

আগামী সপ্তাহে ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ এরেনাতে পিএসজির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। সেই অগ্নিপরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে বুন্দেসলিগার এই ম্যাচটি ছিল বায়ার্নের জন্য ছন্দ ফিরে পাওয়ার সুযোগ। কিন্তু ৩৫তম লিগ শিরোপা জয়ী দলটি হেইডেনহেইমের বিপক্ষে হারের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছে। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তের নাটকীয় এক গোলে পরাজয়ের লজ্জা এড়ায় ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।
Table of Contents
এদিন বায়ার্ন মিউনিখ তাদের নিয়মিত একাদশে ব্যাপক রদবদল আনে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার এবং দলের প্রধান স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে ছাড়াই মাঠে নামে বায়ার্ন। মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রাখার এই সিদ্ধান্ত বায়ার্নের রক্ষণভাগের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। ম্যাচের শুরু থেকেই হেইডেনহেইমের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে বায়ার্নের রক্ষণ।
ম্যাচের মাত্র ২২ মিনিটে বুদু জিভজিভাজের চমৎকার এক ভলিতে এগিয়ে যায় সফরকারী হেইডেনহেইম। বায়ার্ন সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ৩১ মিনিটে এরেন ডিঙ্কি ব্যবধান ২-০ করেন। আধঘণ্টার মধ্যে দুই গোল হজম করে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা চরম অস্বস্তিতে পড়ে। রক্ষণের এই নড়বড়ে অবস্থা পিএসজির মতো শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৪৪ মিনিটে) ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন লিওন গোরেৎকা। বিরতির পর কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি দলে চারটি পরিবর্তন এনে আক্রমণভাগের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এর সুফল পাওয়া যায় ম্যাচের ৫৭ মিনিটে, যখন গোরেৎকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে স্কোর ৩-৩ সমতায় ফেরান।
তবে সমতা ফেরার পরও হেইডেনহেইম দমে যায়নি। ৭৬ মিনিটে বুদু জিভজিভাজে তার দ্বিতীয় গোলটি করে হেইডেনহেইমকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যখন হেইডেনহেইম ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই বায়ার্নের অলিসের একটি শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় দিয়ান্ত রামাজের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের এই আত্মঘাতী গোলে ৩-৩ ব্যবধানে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।
গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগটি ছিল রোমাঞ্চকর, যেখানে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে হেরে যায় বায়ার্ন। পিএসজির বিপক্ষে ফিরতি লেগে জয়ের কোনো বিকল্প নেই দলটির সামনে। এমন সময়ে তলানির দল হেইডেনহেইমের বিপক্ষে ৩টি গোল হজম করা এবং কোনোমতে ড্র করা বায়ার্নের ডাগআউটে ভিনসেন্ট কোম্পানির জন্য একটি সতর্কবার্তা।
শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে গেলেও খেলোয়াড়দের মধ্যে মনোযোগের অভাব এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, লিগ টেবিলের সবার শেষে থাকা হেইডেনহেইম জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র করলেও, বায়ার্নের মতো দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স তাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক অভিজ্ঞতা।
পিএসজির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বায়ার্ন মিউনিখকে দ্রুত তাদের রক্ষণভাগের ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। মানুয়েল নয়ার এবং হ্যারি কেইনের অনুপস্থিতি বায়ার্নের আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় বিভাগেই যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। অ্যালিয়েঞ্জ এরেনাতে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ফিরতে হলে বায়ার্নকে হেইডেনহেইমের বিরুদ্ধে করা ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। ৩-৩ গোলের এই ফলাফল বায়ার্নের জন্য কেবল একটি পয়েন্ট নয়, বরং আসন্ন বড় ম্যাচের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।
মন্তব্য