নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন ভারতে বসবাসের অনুমতি নবায়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্কভাবে জানিয়েছেন, অনুমতি নবায়ন না হলে তাঁর জীবন নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটে পড়তে পারে। এমনকি ভারতে থাকতে না পারলে নিজের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তসলিমার বসবাসের অনুমতি নবায়নের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। চলতি বছরের ১৭ জুলাই তাঁর বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তসলিমা নাসরিনের হাতে এখনও কোনো স্পষ্ট বার্তা বা নিশ্চয়তা আসেনি। এই অনিশ্চয়তাই তাঁর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তসলিমা নাসরিন বলেন, “আমি চাই ভারতেই থাকতে। এখানেই নিজেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মনে করি। কিন্তু অনুমতি নবায়ন নিয়ে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ না থাকায় আমি অসহায় বোধ করছি। আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব, কোন দপ্তরে যোগাযোগ করব। অনলাইনে নিয়মিত খোঁজ রাখছি, কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা পাইনি। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়িনি।”
বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পেছনে দেশের দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। তসলিমা দাবি করেন, মতপ্রকাশ ও লেখালেখির কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল এবং সেই প্রভাব আজও বহন করছেন।
ভারতে বসবাসের অনুমতি নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তসলিমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বা তার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বর্তমানে একজন সুইডিশ নাগরিক হিসেবে ভারতে বসবাস করছেন, এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার আগেই তাঁর অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন ও ভারতে বসবাসের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিম্নে তুলে ধরা হলো:
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৯৪ | বাংলাদেশ থেকে নির্বাসন |
| ১৯৯৪–২০০৪ | ইউরোপে বসবাস |
| ২০০৪ | ভারতে আগমন |
| ২০১১ | দিল্লিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু |
| ২০২৫ (জুলাই) | বর্তমান বসবাসের অনুমতির মেয়াদ শেষ |
তসলিমা উল্লেখ করেছেন, অনুমতি নবায়ন না হলে তিনি কার্যত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বেন। অনেকেই মনে করেন, তাঁর সঙ্গে কোনো সরকার বা প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অতীতেও, বিশেষ করে ২০১৭ সালে, অনুরূপ জটিলতা দেখা দিয়েছিল; তবে তখন তা শুধুমাত্র প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
ভারতে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করলেও এবারের অনিশ্চয়তা তসলিমার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি শুধু একজন লেখিকা নন, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সরকার তাঁর বসবাসের অনুমতি নবায়ন কেবল প্রশাসনিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
