নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে লুট হওয়া ১১৯টি প্রাচীন ভাস্কর্য ফেরত পেল নাইজেরিয়া

ঔপনিবেশিক শাসনামলে লুট হওয়া ১১৯টি মূল্যবান প্রাচীন ভাস্কর্য আনুষ্ঠানিকভাবে নাইজেরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। শনিবার এক আয়োজনে এগুলো ফেরত দেওয়া হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঔপনিবেশিক যুগের নিপীড়নের শিকার হয়ে লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরত আনতে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এটি আফ্রিকার জন্য সর্বশেষ ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।

১৬ থেকে ১৮ শতকের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘বেনিন ব্রোঞ্জ’ নামে পরিচিত এসব ভাস্কর্য ধাতু ও হাতির দাঁতের তৈরি। লাগোসের জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রত্নসম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি উদযাপন করা হয়। সেখানে চারটি মূল্যবান শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়—একটি রাজপ্রতিমার ব্রোঞ্জ মূর্তি, খোদাই করা হাতির দাঁত ও একটি ছোট চিতাবাঘের ভাস্কর্য।

১৯ শতকে ব্রিটিশ সেনারা তৎকালীন স্বাধীন বেনিন রাজ্যের রাজপ্রাসাদ থেকে হাজার হাজার বেনিন ব্রোঞ্জ লুট করে নিয়ে যায়। সেগুলো পরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় স্থান পায়।

লাগোসে প্রদর্শিত চারটি ভাস্কর্য জাতীয় জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহে রাখা হবে। বাকি শিল্পকর্মগুলো বেনিনের ঐতিহ্যবাহী শাসক ওবায়ে এউয়ারি দ্বিতীয় এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জাতীয় জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব কমিশনের মহাপরিচালক ওলুগবিলি হোলোওয়ে বলেন, “এই ভাস্কর্যগুলো আমাদের জাতির আত্মার প্রতীক। এগুলো আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমরা শুধু চাই, বিশ্ব আমাদের মর্যাদা ও সম্মান দিক।”

তিনি আরও জানান, জার্মানি নাইজেরিয়াকে আরও ১,০০০টি বেনিন ব্রোঞ্জ ফেরত দিতে একটি চুক্তি করেছে।

নাইজেরিয়ার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হান্নাতু মুসা মুসাওয়া বলেন, “আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। জার্মানির সঙ্গে হওয়া চুক্তি প্রমাণ করছে, ঐতিহাসিক ভুল শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক পরিসরে জোরালো হচ্ছে।”

ডাচ আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক রাষ্ট্রদূত ডিউই ভ্যান ডি ওয়ার্ড এই প্রত্যাবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করে জানান, ১৮৯৭ সালে ব্রিটিশ সেনাদের লুট করা এই শিল্পকর্ম ফেরত দেওয়া মর্যাদা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, নেদারল্যান্ডস সরকার ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো আরও কিছু দেশের কাছেও ঔপনিবেশিক আমলে লুট হওয়া শিল্পকর্ম ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে।

নাইজেরিয়ার শিল্পী আদেবিম্পে আদেবাম্বো, যিনি বহুদিন ধরে এই আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করে আসছেন, বলেন, “আমি আমার দেশের চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম দেখতে ইউরোপে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছি। এখন সেগুলো দেশে ফিরে আসায় সত্যিই আনন্দিত।”