জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ব্রাজিলকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা টানা তৃতীয়বারের মতো জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। রোববার প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের সুমা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের পর ২-১ গোলে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক ফুটসালে দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের সাম্প্রতিক আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল আর্জেন্টিনা।

পুরো প্রতিযোগিতাটিই অনুষ্ঠিত হয়েছে আসুনসিওনের সুমা স্টেডিয়ামে। ফাইনালেও শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে সেই পরাজয়ের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ট্রফি জেতারও লক্ষ্য ছিল আর্জেন্টিনার তরুণদের সামনে।

ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন তোমাস বারিওস ও অধিনায়ক লরেনসো সামপেদ্রো। নির্ধারিত সময়ের পরও দুই দল সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই আর্জেন্টিনা গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করে ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায়।

শুধু গোলদাতারাই নন, আর্জেন্টিনার জয়ে বড় অবদান ছিল গোলরক্ষক সান্তিনো সানচেজেরও। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। বিশেষ করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে তার পারফরম্যান্স দলকে ম্যাচে টিকে থাকতে সহায়তা করে।

ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায়। প্রতিপক্ষের ওপর সহিংস আচরণের কারণে ব্রাজিলের জিয়ান সোনিয়ের লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রাজিলকে একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হয়। সেই পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করে।

এই সাফল্যের পেছনে কোচ সান্তিয়াগো বাসিলের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বে আসেন তিনি। এরপর যে তিনটি অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনবারই দলকে শিরোপা এনে দিয়েছেন।

বাসিলের অধীনে এই ধারাবাহিক সাফল্য আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক ফুটসাল কাঠামোর শক্তিরও ইঙ্গিত দেয়। তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর সক্ষমতা তৈরি করা এই সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ফাইনালের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার জাতীয় সিনিয়র ফুটসাল দলের কোচ মাতিয়াস লুকুইক্স। তরুণদের পারফরম্যান্স সরাসরি দেখার সুযোগ পাওয়া জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় উঠে আসার সম্ভাবনা থাকে।

এই শিরোপা আর্জেন্টিনার জন্য এক অর্থে দ্বিগুণ প্রতিশোধেরও সমান। শুধু এই প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলের হারই নয়, বছরের শুরুতে পানামায় অনুষ্ঠিত জুভেনাইল প্যান আমেরিকান গেমসের ফাইনালেও ব্রাজিলের কাছে পরাজিত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তাই এবার দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ট্রফি জেতার আনন্দটা তাদের জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম পরিচিত দ্বৈরথ। বয়সভিত্তিক ফুটসালেও সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা কমেনি। বরং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এমন ম্যাচ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।

ফাইনালের জয় তাই শুধু একটি ট্রফি জয়ের ঘটনা নয়। আর্জেন্টিনার তরুণ দল দেখিয়েছে, গ্রুপ পর্বের পরাজয় কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাও তাদের রয়েছে। টানা তিনটি দক্ষিণ আমেরিকান শিরোপা সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর