কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় প্রধান ও হুকুমের আসামি হিসেবে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করা হলেও ঘটনার চার দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ খাজা আহমেদের নাম প্রধান ও হুকুমের আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে।
এছাড়া মামলায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, স্থানীয় রাজীব মিস্ত্রী এবং মো. শিহাব। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় একশ আশি থেকে দুইশ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের একটি সংঘবদ্ধ হামলাকারী দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা জানান, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও সাক্ষ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং দ্রুত অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
মামলার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন শনিবার দুপুরের কিছু আগে ফিলিপনগরে অবস্থিত একটি দরবার শরিফে হামলা চালানো হয়। একদল লোক দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দরবারে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা দরজা ও জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং লোহার রড, হাঁসুয়া, দা, ছুরি, কুড়াল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম ব্যবহার করে আঘাত করে।
এই হামলায় আবদুর রহমান গুরুতরভাবে আহত হন। একই ঘটনায় জোবায়ের নামের আরও একজন এবং দরবারের এক নারী পরিচারিকা জামিরনও আহত হন। এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দরবারে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় বিশ লাখ টাকার ক্ষতি করে এবং একটি স্টিলের আলমারি ভেঙে পাঁচ লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযুক্তদের পরিচয় সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—
| ক্রম | নাম | পরিচয় | ঠিকানা |
|---|---|---|---|
| ১ | মুহাম্মদ খাজা আহমেদ | রাজনৈতিক নেতা, হুকুমের আসামি | ইসলামপুর, ফিলিপনগর ইউনিয়ন |
| ২ | মো. আসাদুজ্জামান | রাজনৈতিক নেতা | হোসেনাবাদ, দৌলতপুর |
| ৩ | রাজীব মিস্ত্রী | স্থানীয় বাসিন্দা | পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর |
| ৪ | মো. শিহাব | স্থানীয় বাসিন্দা | ইসলামপুর পূর্ব পাড়া |
| — | অজ্ঞাতনামা | সংঘবদ্ধ দল | প্রায় একশ আশি থেকে দুইশ জন |
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত মুহাম্মদ খাজা আহমেদ কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে তাদের কোনো নেতা বা কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি একটি স্থানীয় বিরোধ থেকে সৃষ্ট ঘটনা, যা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সব অভিযোগ, সাক্ষ্য ও তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
