তেজগাঁও বিভাগে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ ৭২ জন গ্রেফতার

রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) দিনব্যাপী পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন মঙ্গলবার রাতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।


অভিযানের বিবরণ ও উদ্ধারকৃত আলামত

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজগাঁও বিভাগের অন্তর্গত এলাকাগুলোতে ছিনতাই, মাদক কেনাবেচা এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মাদকদ্রব্য: ৫৮ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট।

  • দেশীয় অস্ত্র: দুটি ধারালো সামুরাই এবং দুটি চাপাতি।

  • নগদ অর্থ: মাদক বিক্রয় ও অন্যান্য অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট নগদ ২ হাজার ৭৭০ টাকা।


থানা ভিত্তিক গ্রেফতারের পরিসংখ্যান

তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন ছয়টি থানা এলাকায় পুলিশের পৃথক দল এই অভিযান চালায়। থানা ভিত্তিক গ্রেফতারকৃতদের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

থানার নামগ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সংখ্যা
মোহাম্মদপুর থানা২৬ জন
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা১৭ জন
শেরেবাংলা নগর থানা০৮ জন
হাতিরঝিল থানা০৮ জন
তেজগাঁও থানা০৭ জন
আদাবর থানা০৬ জন
সর্বমোট৭২ জন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা বেশি থাকায় সেখান থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মো. মামুন (২২), উজ্জল মিয়া (৩২), আলী হায়দার (৫১), গোলাম রাব্বি ওরফে রিফান (২৪), ইউসুফ (৩১), মকবুল হোসেন ওরফে সোহাগ (২৫), জোসনা বেগম (৪০), মঞ্জুরুল ইসলাম (৩৪), নুরে আলম খান (৪০), মেহেদী হাসান শামিম (২৬), মিল্টন (৪৫), জালাল (৩২), আব্দুল করিম (২১), লিটন (৬৫), হেমায়েত (৩৪), আম্বিয়া খাতুন ওরফে রোকেয়া (৫৫), রুপালী খাতুন (৩২), আল আমিন (২৫), নূর নবী (১৯), সোহেল নূর সোহেল (৩০), বিপ্লব (২৫), শিপন (২০), রিমন (২২) ও মিঠুন (৩১)।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন সাইফুল ইসলাম ক্যান্ডি ওরফে সুমন, আব্দুল কাদের ওরফে পিচ্চি কাদের, ইমহিয়াজ করিম, সুমন (৪০), লিটন (৩৫), রমজান (২৮), জাহিদুল ইসলাম (২৭), ইদ্রিস আলী (২২), সোহেল রানা (২৮), ইব্রাহিম হোসেন (২৫), মনিরুজ্জামান ফিরোজ (৪২), রায়হান আলী (২৫), মিঠুন (৩২), সুমন হাওলাদার ওরফে পিচ্চি সুমন (৩০), আরিফ (২৫), বিজয় (১৮), আরিফ (১৮), ইমাম হোসেন রাকিব (৩৮), গোলাম মোস্তফা (২৮), রোকন গাজী (১৯), আতাউর রহমান (৪৫), রিয়াজুল ইসলাম (৩২), ফারুক মিয়া (৪৭), সজিব ইসলাম (২৯), মারুফ রব্বানী (১৯), শাহিন (২৪) ও শাকিল (২২)।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরও রয়েছেন তানজিল (২৩), মাহিন কালু (২৬), হাসিবুর রহমান ইমন (২৬), নয়ন (১৯), রুবেল (৩৩), আব্দুর রব (৩২), অসীত হাওলাদার (৪০), সুমন মিয়া (২০), লিংকন (২৬), দুলাল মিয়া (৪০), মোস্তাক (৩৬), সানি এলেম র‍্যামনসান সানি (১৮), ফায়াইস ইসলাম রাসা (১৯), লিমন মিয়া (২৬), শহিদুল মিয়া (২৭), জুনায়েদ (৩৩), সোহেল রানা বাবু, সোহাগ (২৪), বিজয় (২১), রাসেল গাজী (৩৩) ও নীল (২০)।


পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বার্তা

উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত ৭২ জনকেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, রাজধানীর তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর এবং আদাবর এলাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে জননিরাপত্তা বজায় রাখা পুলিশের অগ্রাধিকার। ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধীদের সমূলে উৎপাটন করতে এই বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন।