মোহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তুরস্কের সুপার লিগে বড় জয় পেয়েছে ট্রাবজোন্সপোর। ঘরের মাঠ পাপারা পার্কে শীর্ষে থাকা গালাতাসারাইকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ম্যাচে সালাহ করেছেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, পাশাপাশি সতীর্থ নোয়াহ স্যাভিওলোকে দিয়ে করিয়েছেন আরেকটি গোল। অর্থাৎ দলের চার গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন মিশরীয় এই তারকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই সালাহকে থামাতে হিমশিম খেতে হয়েছে গালাতাসারাইয়ের রক্ষণকে। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ট্রাবজোন্সপোরকে এগিয়ে দেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। দ্রুত পাওয়া এই গোলের পরও আক্রমণের ধার কমেনি স্বাগতিকদের।
এরপর সালাহ নিজে গোল না করে সতীর্থকে সুযোগ তৈরি করে দেন। তাঁর সহায়তায় নোয়াহ স্যাভিওলো ট্রাবজোন্সপোরের দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবারও গোলের দেখা পান সালাহ। নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিরতির আগেই দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে গালাতাসারাই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ট্রাবজোন্সপোর। ৭২ মিনিটে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে লাল কার্ড দেখেন গালাতাসারাইয়ের কোচ ওকান বুরুক। কয়েক মিনিট পর ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার লেসলি উগোচুকুও। ফলে শেষদিকে ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় সফরকারীদের।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ৮০ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন সালাহ। দারুণ এক ফিনিশিংয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে নিশ্চিত করেন ট্রাবজোন্সপোরের ৪-০ গোলের জয়। একই সঙ্গে এটি তুর্কি লিগে সালাহর প্রথম হ্যাটট্রিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে সালাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তাঁর সাবেক লিভারপুল সতীর্থ ফাবিনিয়ো। তাঁর মতে, বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়দের কাছ থেকেই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করা হয়। সালাহ সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে নিয়মিতই সক্ষম হন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সালাহর প্রথম হ্যাটট্রিকে নিজের আনন্দের কথাও জানান ফাবিনিয়ো।
এই জয়ের ফলে ট্রাবজোন্সপোরের পয়েন্টসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। শীর্ষস্থানীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন বড় জয় শিরোপার লড়াইয়ে তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে পাওয়া এই ফল নতুন কোচ থমাস রাইস এবং তাঁর দলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো একটি মুহূর্ত হয়ে এসেছে।
ম্যাচটির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অবশ্য সালাহর পারফরম্যান্স। একটি ম্যাচে তিন গোল ও একটি অ্যাসিস্ট—দলের চার গোলেই সরাসরি অবদান রেখে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কীভাবে পুরো দলের ফল বদলে দিতে পারে। ট্রাবজোন্সপোরের হয়ে এমন শুরুতে তাঁর প্রভাব এখন দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও বড় প্রত্যাশার জন্ম দিচ্ছে।









