জুনে পদত্যাগের ঘোষণা ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রধান রোনেন বারের

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর প্রধান রোনেন বার সোমবার ঘোষণা করেছেন, আগামী ১৫ জুন তিনি পদত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। যদিও তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আপাতত দেশটির সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করেছে।

শিন বেতের নিহত কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোনেন বার বলেন, “৩৫ বছরের চাকরি জীবনের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

রোনেন বার তার বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের দক্ষিণ ইসরাইলে আক্রমণের আগে কী ঘটেছিল — তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উঠে এসেছে। ওই হামলার জেরে গাজায় ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে রোনেন বার অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার কাছে ব্যক্তিগত আনুগত্য দাবি করেছেন এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।

জবাবে নেতানিয়াহু আদালতে হলফনামা দিয়ে রোনেন বারকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে শিন বেত প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিংবা সেনাবাহিনীকে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি।

সোমবার শিন বেত সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রোনেন বার বলেন, “এ লড়াই আমার ব্যক্তিগত নয়, বরং ভবিষ্যৎ শিন বেত প্রধানদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য।”

তিনি আরও স্বীকার করেন, ৭ অক্টোবর হামলা প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থার বড় ধরণের ব্যর্থতা হয়েছিল। “বহু সফলতার পর, এক রাতেই দক্ষিণ ফ্রন্টে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এ ব্যর্থতার দায় একমাত্র আমার।”

এর আগে সরকার তাকে বরখাস্তের ঘোষণা দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সেটি স্থগিত করে। এতে দেশে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। রাজনৈতিক বিরোধী দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আদালতে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে।

ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত স্বার্থ এতে জড়িত, কারণ শিন বেত তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করছিল।

আদালত উভয়পক্ষকে পৃথক হলফনামা জমা দিতে বলেছে। রোনেন বার তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানবেন, আদালতের নয়।

তিনি আরও দাবি করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার ঠিক আগে শিন বেত নিরাপত্তা দলকে সতর্ক করেছিল। “সেই রাতে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।”

নেতানিয়াহু অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ২৩ পৃষ্ঠার হলফনামায় বলেছেন, রোনেন বার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সরকারের আস্থা হারিয়েছেন।