জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জয়পুরহাটে চোর সন্দেহে দুই যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতন, নিহত ১

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চোর সন্দেহে দুই তরুণকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্জন ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও গণপিটুনির এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। বর্বর এই ঘটনায় লাল বাদশা (১৮) নামের এক তরুণ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। অন্যদিকে তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাইদুল (১৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত লাল বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর আদর্শ গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে। আর আহত মাইদুল একই এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে। ১৮ বছর বয়সী সমবয়সী এই দুই তরুণ স্থানীয়ভাবে একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, শনিবার সকালে মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার একটি মাঠের পাশের রাস্তায় দুই তরুণকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে। পুলিশ সদস্যরা লাল বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মুমূর্ষু অবস্থায় মাইদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে মাইদুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সার্বিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা জানান বেঁচে যাওয়া তরুণ মাইদুল। তিনি জানান, তারা দুজন জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময় কয়েকজন অচেনা লোক তাঁদের ডেকে নিয়ে যায় এবং একটি নির্জন ঘরের মধ্যে হাত-পা বেঁধে আটকে ফেলে। এরপর তাঁদের ওপর শুরু হয় নারকীয় তাণ্ডব। কাঠ, বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে হামলাকারীরা। একটানা নির্যাতনের মুখে একপর্যায়ে দুজনই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হামলাকারীরা উভয়কে মৃত ভেবে মাঠের পাশের নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারার ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের মতে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করাই আইনি নিয়ম। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, চোর সন্দেহে আটকে রেখে নির্যাতনের কারণেই এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই নৃশংসতার পেছনে চুরির সন্দেহের বাইরে কোনো পুরোনো শত্রুতা বা পূর্বপরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত লাল বাদশার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর