জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধার মৃত্যু, ছেলে-পুত্রবধূ আটক

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রেজিয়া খাতুন (৮২) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের ছেলে দুলাল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনে আরাকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে উপজেলার বাড়িয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেজিয়া খাতুন ওই গ্রামের মৃত কাজিমুদ্দিনের স্ত্রী। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ির পাশের জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন সময় তাঁদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও হতো।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রেজিয়া খাতুনের সঙ্গে তাঁর ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে পৌঁছায়। এ সময় বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে হালুয়াঘাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ বাড়িয়াকান্দা গ্রামের ওই বাড়ি থেকে রেজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁর ছেলে দুলাল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনে আরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের প্রতিবেশী সাইদুল ইসলাম জানান, রেজিয়া খাতুনের সঙ্গে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে আগে থেকেই ঝগড়া-বিবাদ ছিল। ঘটনার দিনও বাড়ির পাশের জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে বৃদ্ধা মাটিতে পড়ে যান।

তবে স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর ঘটনাকে এখনই হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করছে না পুলিশ। বৃদ্ধা পড়ে যাওয়ার কারণে মারা গেছেন, নাকি ধাক্কায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন, কিংবা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণ ছিল—এসব বিষয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলম জানান, বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারও দায় রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রামাঞ্চলে জমি, বসতভিটা ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ অনেক সময় পারিবারিক সম্পর্কেও চাপ তৈরি করে। কথাকাটাকাটি থেকে শারীরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে বয়স্ক সদস্যরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। তবে হালুয়াঘাটের এই ঘটনায় মৃত্যুর পেছনে ঠিক কোন পরিস্থিতি কাজ করেছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশের তদন্তে ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, পারিবারিক জমি নিয়ে পূর্ববর্তী বিরোধ এবং ধাক্কাধাক্কির প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ পাওয়া যায় কি না, সেটিও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর