রাজধানী ঢাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দায়িত্ব পালনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রায় পাঁচ হাজার গাড়ি রিকুইজিশনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, লেগুনা, মাইক্রোবাসসহ কিছু ব্যক্তিগত গাড়িও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এই রিকুইজিশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, “প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িও নির্বাচনি দায়িত্বে নেওয়া হতে পারে। এটি করার সময় কোনো বিধি-বিধান ভঙ্গ হবে না। তবে গাড়ির মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
প্রধান রিকুইজেশনের ধরন ও সংখ্যার সম্ভাব্য তালিকা:
| যানবাহনের ধরন | সম্ভাব্য সংখ্যা | লক্ষ্য সংস্থা/ব্যবহার |
|---|---|---|
| বাস | ২৪০০ | পুলিশ, সেনা, বিজিবি |
| ট্রাক | ৩০ | খাদ্য ও সরবরাহ বাহিনী |
| লেগুনা | ১১০০ | পুলিশ, আনসার, বিজিবি |
| মাইক্রোবাস | ১০০০+ | টেলিকম ও অন্যান্য সংস্থা |
| ব্যক্তিগত গাড়ি | প্রয়োজনমতো | নির্বাচনি কাজে ব্যবহার |
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা বাড়তি কার্যক্রম চালানোর জন্য স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে বেশি গাড়ির প্রয়োজন হয়। গত দুই বছরে গাড়ির সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী হয়নি, তাই রিকুইজিশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
২০১৯ সালের ৩১ জুলাই হাই কোর্টের রায়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবকে রিকুইজেশনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও সরকারের বিশেষ প্রয়োজনে এই গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন ধরা হবে না।
রিকুইজিশনের জন্য গাড়ির মালিককে লিখিত নোটিশ দেওয়া হবে, যাতে নির্ধারিত তারিখ ও স্থানে গাড়ি উপস্থিত করা হয়। অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান জানান, “রিকুইজেশনের সময় গাড়ি ও চালকের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।” তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও হিসাব পদ্ধতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করবে। প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুসরণ করে রিকুইজিশন বা ভাড়া করা যানবাহন ব্যবহার করা যাবে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গাড়ি মালিকের গাড়ি তিন থেকে পাঁচ দিন, কিছু ক্ষেত্রে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও রিকুইজিশন দেওয়া হতে পারে। রিকুইজিশনের মাধ্যমে নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
