,

কুমিল্লায় সিএনজি স্টেশনের ক্যাসকেড রুমে আগুন

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস ক্যাসকেড রুমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে মল্লিকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত ছিল না। ক্যাসকেড রুমে থাকা কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারের কন্ট্রোল হুইল আগুনের তাপে গলে যাওয়ায় রিজার্ভার থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। ফলে আশপাশে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পুনরায় আগুন লাগা বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ চালিয়ে যান।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ কবির জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে ঘটনাস্থলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস ক্যাসকেড রুমের গ্যাস রিজার্ভারের সেফটি ডিভাইসে কোনো ধরনের লিকেজ থেকে কন্ট্রোল প্যানেলে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বৈদ্যুতিক স্পার্ক সৃষ্টি হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও ছিল। তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনার সময় ক্যাসকেড রুমে মোট ২৪টি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। এর মধ্যে আনুমানিক ৮ থেকে ১০টি সিলিন্ডার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে। প্রতিটি সিলিন্ডারের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আগুনে ক্ষতির চেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় গ্যাস লিকেজের ঝুঁকি। আগুন নিভে যাওয়ার পরও কয়েকটি সিলিন্ডারের কন্ট্রোল হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রিজার্ভার থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। গ্যাস জমে গেলে সামান্য আগুনের উৎস বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকেও নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ঘটনাস্থলে থাকা মানুষজনকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় ফায়ার সার্ভিস।

স্টেশন কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ কবির জানান, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়। স্টেশনের আশপাশে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরবর্তী সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে ক্যাসকেড রুমে থাকা অন্যান্য সিলিন্ডার এবং পুরো ফিলিং স্টেশন বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আগুনের সূত্রপাত, গ্যাস লিকেজের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্যাস রিজার্ভারের সেফটি ডিভাইস ও কন্ট্রোল প্যানেলে কী ধরনের ত্রুটি ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।