বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যেই চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন করে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় এই আমদানিতে প্রতি ইউনিট গ্যাসের জন্য গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ, যা দেশের সার্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব আমলে নিয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন আমদানির ব্যয় ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিবরণ
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর সরবরাহ করার জন্য নির্ধারিত ৪৬তম কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন। এই চালানে প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ৬২৫ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৪৭তম কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্যের টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। এর আগে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার দামে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও পূর্বের চিত্র
কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে কম ছিল। গত বছরের ডিসেম্বরেও সরকার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সাড়ে ১০ মার্কিন ডলারের কম দামে কিনতে পেরেছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববাজারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ২৩ দশমিক ৯৩ ডলারের দাম পেরিয়ে নতুন অনুমোদিত কার্গোগুলোর দাম এখন ২৪ ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে এলএনজির আমদানি ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চড়া দামেই এই জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে নীতিনির্ধারকরা।
এলএনজি আমদানির তথ্য ও পরিসংখ্যানের এক পলক
| ক্রিক | বিবরণ ও তথ্যপয়েন্ট | পরিসংখ্যান ও মূল তথ্য |
| ১ | সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ | সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি |
| ২ | বৈঠকের সভাপতিত্ব | অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী |
| ৩ | বৈঠকের স্থান | সচিবালয়, ঢাকা |
| ৪ | অনুমোদিত এলএনজি কার্গো | মোট দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস |
| ৫ | প্রথম কার্গোর সরবরাহকারী | পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন |
| ৬ | প্রথম কার্গোর সময়সীমা | ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর |
| ৭ | প্রথম কার্গোর দাম (প্রতি এমএমবিটিইউ) | ২৪ দশমিক ৬২৫ মার্কিন ডলার |
| ৮ | দ্বিতীয় কার্গোর সরবরাহকারী | টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড, যুক্তরাজ্য |
| ৯ | দ্বিতীয় কার্গোর সময়সীমা | ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর |
| ১০ | দ্বিতীয় কার্গোর দাম (প্রতি এমএমবিটিইউ) | ২৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার |
| ১১ | পূর্ববর্তী সপ্তাহের ক্রয়মূল্য | ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার (আরামকো ট্রেডিং) |
| ১২ | గತ বছরের ডিসেম্বর মাসের দাম | প্রতি এমএমবিটিইউ সাড়ে ১০ ডলারের নিচে |
জ্বালানির এমন লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের আমদানি ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনই তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাত ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।









