কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে ভারত। ধ্রুব জুরেলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, ঋষভ পন্তের রেকর্ড গড়া ছক্কা এবং শেষ বিকেলে শ্রীলঙ্কার দুই উইকেট পতন—সব মিলিয়ে দিনটি ভারতের নিয়ন্ত্রণেই শেষ হয়েছে। দিন শেষে ভারত ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, জবাবে মাত্র ৮ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
দিনের শুরুতে ৫ উইকেটে ৩০০ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই তাদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। টেস্ট অভিষেক হওয়া সারাংশ জৈন মাত্র ৬ রান করে আশিতা ফার্নান্ডোর বলে দ্বিতীয় স্লিপে কামিল মিশারার হাতে ক্যাচ দেন। অভিষেক ম্যাচেই অবশ্য বড় ইনিংস খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর।
এরপর আগের দিন হাতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া ঋষভ পন্ত আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন। তাঁকে শুরুতেই বাউন্সার দিয়ে পরীক্ষা করেন ফার্নান্ডো। পন্ত ঝুঁকি না নিয়ে বল ছেড়ে দেন। তবে কয়েক বল পরই তাঁর ব্যাট থেকে আসে বড় শট। লাহিরু কুমারকে হুক করে ছক্কা হাঁকিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ১০১তম ছক্কা পূর্ণ করেন ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
এই ছক্কার মধ্য দিয়ে পন্ত টেস্ট ইতিহাসে সর্বাধিক ছক্কা মারা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন। তিনি ছাড়িয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে। পন্তের ওপরে এখন রয়েছেন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস ও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। পরে আরও একটি ছক্কা মারেন পন্ত।
লাঞ্চের পর প্রথম বলেই অবশ্য পন্তের ইনিংস শেষ হয়। ৬৩ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তবে তার আগে ধ্রুব জুরেলের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে গড়ে তোলেন ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পন্ত ফিরে যাওয়ার সময় জুরেলের সংগ্রহ ছিল ৫৯ রান।
এরপর টেলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে ইনিংসকে আরও এগিয়ে নেন জুরেল। ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১১৫ রানে অপরাজিত থাকেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। তাঁর ইনিংসটি ভারতের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভারতের স্কোর ৫০০ ছুঁতেই অধিনায়ক শুবমান গিল ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা প্রসিধ কৃষ্ণা পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে দলের স্কোর ৫০০ পার করেন। এরপর ড্রেসিংরুম থেকে গিলের ইশারা আসে—ব্যাটসম্যানদের ফিরে আসতে বলা হয়। ভারত ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। জুরেল তখন ১১৫ রানে অপরাজিত।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় স্কোর করার ক্ষেত্রে ভারতের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতাও এদিন আরও স্পষ্ট হয়েছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সর্বশেষ পাঁচ টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসের স্কোর যথাক্রমে ৬০০, ৬২২/৯ ঘোষণা, ৪৮৭, ৪৬২ এবং এবার ৫০৩/৯ ঘোষণা। অর্থাৎ স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার প্রবণতা ভারতের ব্যাটিং শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
ভারতের ইনিংস ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে নামলেও শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক হয়নি। মাত্র দুই বল খেলার পর বৃষ্টিতে দ্বিতীয়বারের মতো খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল কোনো রান না করে ১ বল বা তারও বেশি? বৃষ্টির পর খেলা পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রায় আধঘণ্টা পর খেলা শুরু হলেও দিনের আলো তখন দ্রুত কমে আসছিল। আলোস্বল্পতা নিয়ে শ্রীলঙ্কার আপত্তি ছিল। আম্পায়াররা লাইট মিটার দিয়ে পরিস্থিতি পরীক্ষা করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত আরও ১৬ বল খেলা হয়।
এই অল্প সময়েই শ্রীলঙ্কার বিপর্যয় আরও গভীর হয়। ওপেনার লাহিরু উদারা প্রসিধ কৃষ্ণার বলে যশস্বী জয়সোয়ালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর নাইটওয়াচম্যান প্রবাত জয়াসুরিয়াকে এলবিডব্লিউ করেন বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার। ফলে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
দিনের শেষ মুহূর্তে আলোস্বল্পতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মাঠের পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই উইকেটের পতন। ভারতের ৫০৩ রানের জবাবে স্বাগতিকদের শুরুতেই চাপে পড়তে হয়েছে।
ভারতের পক্ষে জুরেলের অপরাজিত ১১৫ রান তাই শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, দলের বড় সংগ্রহের অন্যতম ভিত্তিও হয়ে উঠেছে। পন্তের রেকর্ড ছক্কা এবং শেষ বিকেলে শ্রীলঙ্কার দুই উইকেট হারানো ভারতকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে ধরে রাখার সুযোগ দিয়েছে।









